অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে রবিবার সকাল ১০টায় ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপো-২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
এই তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে। একই ভেন্যুতে সমান্তরালভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘এশিয়া ল্যাব এক্সপো-২০২৬’, যেখানে ল্যাবরেটরি ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট আধুনিক প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের এক্সপোতে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের চার শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আধুনিক পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শনের মাধ্যমে ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের নতুন দিগন্ত তুলে ধরছে। এতে দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারছেন।
প্রদর্শনীতে ফার্মাসিউটিক্যাল প্রসেসিং ও প্যাকেজিং প্রযুক্তি, অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (API) ও এক্সিপিয়েন্টস, অ্যানালিটিক্যাল ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি, ক্লিনরুম ও এইচভিএসি সিস্টেম, পানি পরিশোধন ও ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি এবং টার্নকি প্রজেক্ট সেবা সহ বিভিন্ন আধুনিক সমাধান উপস্থাপন করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আবদুল মুক্তাদির, যিনি বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি এবং ইন্সেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে আরও গতিশীল করবে। প্রদর্শনীর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে, আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বৈদেশিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, যুদ্ধের সময় তিনি মায়ের কাছে অনুমতি চেয়ে বলেছিলেন, ‘‘আমরা যদি না যাই, তবে দেশ স্বাধীন করবে কে?’’ এ স্মৃতিচারণের মাধ্যমে তিনি বর্তমান প্রজন্মকে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও যদি শুধু ভবিষ্যতের কথা বলা হয় কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তবে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি উপস্থিত শিল্প উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, উৎপাদনের মাধ্যমে তারা দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। তবে রাষ্ট্র যদি শক্তিশালী না হয়, তবে এই অগ্রগতির সুফল টেকসই হবে না। সম্মিলিত উদ্যোগ ও সমন্বিত কার্যক্রম ছাড়া দেশের স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়। মন্ত্রী সকলকে একসাথে কাজ করে দেশের অগ্রগতির পথ সুগম করার আহ্বান জানান।


