জাপান মোতায়েন করলো দূরপাল্লার টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্র, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি

জাপান মোতায়েন করলো দূরপাল্লার টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্র, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাপান প্রথমবারের মতো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সেনা ঘাঁটিতে দূরপাল্লার টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। দেশটি সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আত্মরক্ষার ক্ষমতা জোরদার করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ উৎপাদিত টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্রটি কুমামোটো প্রিফেকচারের ক্যাম্প কেনগুন সেনা ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটি সবচেয়ে জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখোমুখি। তিনি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি জাপানের আত্মরক্ষার সংকল্পও প্রতিফলিত করে।

নতুন টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় এক হাজার কিলোমিটার, যা আগের সংস্করণের ২০০ কিলোমিটারের তুলনায় ব্যাপক বৃদ্ধি। এই সক্ষমতার ফলে ক্ষেপণাস্ত্র চীনের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। বিশ্লেষকেরা মন্তব্য করেছেন, এটি জাপানের দীর্ঘদিনের শুধুমাত্র আত্মরক্ষাভিত্তিক নীতির তুলনায় সামান্য পরিবর্তন নির্দেশ করে, যা দূর থেকে সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে আঘাত করার সক্ষমতা প্রদান করে।

ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের খবরের পর স্থানীয় বাসিন্দারা কেনগুন সেনা ঘাঁটির বাইরে বিক্ষোভ করেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আবাসিক এলাকার কাছাকাছি এই ধরনের অস্ত্র মোতায়েনে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ভবিষ্যতে এলাকা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে। জাপান দক্ষিণ-পশ্চিমের দ্বীপগুলো রক্ষার জন্য ধাপে ধাপে আরও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে।

সোমবার টোকিওর পশ্চিমে শিজুওকা প্রিফেকচারের ক্যাম্প ফুজি ঘাঁটিতে একটি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল (এইচজিভি) মোতায়েন করা হয়েছে। এটি দ্বীপ প্রতিরক্ষার জন্য উদ্ভাবিত নতুন ধরনের অস্ত্র। জাপান পরিকল্পনা করেছে, ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে দেশের উত্তরের হোক্কাইডো এবং দক্ষিণের মিয়াজাকিসহ আরও কয়েকটি স্থানে উন্নত টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভারী মালবাহী যান (এইচজিবি) স্থাপন করা হবে।

এছাড়া জাপান এই বছরের শেষের দিকে তাদের যুদ্ধজাহাজ জেএস চোকাই-এ এবং পরে আরও সাতটি ডেস্ট্রয়ারে মার্কিন তৈরি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বসানোর পরিকল্পনা করছে। নতুন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার।

জাপান চীনকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রধান হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। তাই পূর্ব চীন সাগরের নিকটবর্তী দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বীপগুলোতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা নতুন অর্থবছরের জন্য ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বেশি (প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার) প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক। বাজেটের লক্ষ্য হলো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনসহ নতুন অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে পাল্টা আঘাত এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা।

গত জুনে জাপান প্রথমবারের মতো তাদের দূরবর্তী দ্বীপপুঞ্জের কাছে দুটি চীনা বিমানবাহী রণতরীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। এতে টোকিওতে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে যে, চীনের সামরিক কার্যক্রম দেশের সীমান্তের বাইরে বিস্তৃত হচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি জানান, চীনের প্রশান্ত মহাসাগরীয় সামরিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নতুন দপ্তর গঠন করা হবে। এর আগে, নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ জাপানের প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ