ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ ও পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ ও পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের ওপর পুনরায় কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ধারাবাহিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। এই সামরিক উত্তেজনার জেরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সমঝোতার সম্ভাবনা নস্যাৎ হয়ে গেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত কয়েক দিনে ইরানের অভ্যন্তরে এবং হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যানুসারে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করতে এবং বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র এই বিমান হামলা পরিচালনা করছে। মার্কিন হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ৭২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। কুয়েত ও ইরাকের ইরবিলে মার্কিন কনস্যুলেট লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। ইরান সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী এই অভিযানের সাথে যুক্ত বলে জানা গেছে। এদিকে, নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। এয়ার কানাডা, এয়ার ফ্রান্স ও এজিয়ান এয়ারলাইন্সের মতো আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো দুবাই, রিয়াদ, বৈরুত ও তেল আবিবগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে।

কূটনৈতিক পর্যায়ে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান এখনো একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে তেহরান এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটন যদি জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলি মেনে না চলে, তবে ইরানও সেই চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য নয়। তেহরানের ভাষ্যমতে, বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

এই উত্তজনা নিরসনের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র উল্টো ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তেহরান যাতে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে না পারে, সেজন্য ইরান, রাশিয়া ও নাইজেরিয়ার বেশ কয়েকজন ব্যক্তি এবং একাধিক সংস্থার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। একই সাথে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারী কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজকে গন্তব্য পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।

হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান রুট হওয়ায় এই অঞ্চলে সামরিক উত্তজনা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিসহ গভীর সংকটের জন্ম দিতে পারে। দুই পক্ষই বর্তমানে নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ বর্তমানে বেশ সংকীর্ণ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ