আটলান্টায় সেমিফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ হল ইংল্যান্ড

আটলান্টায় সেমিফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ হল ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ ৫৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে আটলান্টায় মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু দীর্ঘ আট বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হলো ইংলিশদের। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে চূড়ান্ত পর্বের হাতছানি থেকে বঞ্চিত হলো থ্রি লায়ন্সরা। বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত এই উত্তেজনাকর ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও রক্ষণভাগের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি দলটি।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল কৌশলগত লড়াইয়ে ভরপুর। দুই দলই সতর্ক অবস্থানে থেকে রক্ষণভাগ সামলাতে বেশি মনোযোগী ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি বাড়ে। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে মর্গান রজার্সের নিখুঁত ক্রসে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে লিড নেয় ইংল্যান্ড। এই গোলটি ফাইনালের দিকে যাত্রার পথ প্রশস্ত করেছিল। কিন্তু ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ইংলিশ ফরোয়ার্ডরা।

ম্যাচের শেষদিকে এসে দৃশ্যপট বদলে যায়। আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ফুটবলের মুখে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগে ফাটল ধরে। এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এরপর ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজ আর্জেন্টিনার হয়ে জয়সূচক গোলটি করলে স্তব্ধ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের শিবির।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় নিউক্যাসেল ডিফেন্ডার ড্যান বার্ন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর দলটি কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশলে ফিরে যায়। আর্জেন্টিনার মতো উচ্চমানের দলের বিপক্ষে বক্সের ভেতর সুযোগ তৈরি করার সুযোগ দেওয়া ছিল আত্মঘাতী। তিনি স্বীকার করেন যে, দীর্ঘ বিরতির পর ফাইনালে ওঠার মাহেন্দ্রক্ষণে খেলোয়াড়দের মধ্যে স্নায়ুচাপ কাজ করেছিল, যা দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। শেষ ১৬-এর রাউন্ডে মেক্সিকোর বিপক্ষে ১০ জন নিয়ে ৩-২ ব্যবধানের জয় এবং কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সেমিফাইনালে এসে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতার কাছে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে হলো তাদের।

টুর্নামেন্টের আগে ইংল্যান্ডকে নিয়ে প্রত্যাশা খুব একটা উচ্চগ্রামে না থাকলেও, তারা মাঠের খেলায় নিজেদের প্রমাণ করেছে। ড্যান বার্ন উল্লেখ করেন, পুরো টুর্নামেন্টে দল যে ধরনের ফুটবল খেলেছে, তা নিয়ে তিনি গর্বিত। যদিও ইতিহাস গড়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে, তবুও এবারের আসর থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।

ফাইনালের স্বপ্ন ভঙ্গ হলেও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হচ্ছে না। আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। পদক জয়ের লড়াইয়ে ইংলিশরা তাদের হারানো ছন্দ ফিরে পেতে চাইবে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা এই জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আটলান্টার এই ম্যাচটি দীর্ঘ সময় ইংলিশ ফুটবল ভক্তদের মনে কষ্টের স্মৃতি হয়ে থাকবে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ