কৃষি ডেস্ক
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, কৃষকদের প্রদত্ত সহায়তা রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে এবং প্রকৃত কৃষকরা তা গ্রহণের যোগ্যতা অনুযায়ী সুবিধা পেতে সক্ষম হতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের কৃষি সহায়তা কার্যক্রমে প্রকৃত চাষিরাই সুবিধাভোগী হবেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত ধান ও পাট বীজসহ সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে পাট বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়।
পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, “আমাদের পর্যাপ্ত তেল মজুদ রয়েছে। অপ্রয়োজনীয় মজুদের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পরও সরকার অর্থনীতি সচল রাখার জন্য ভর্তুকি দিয়ে দাম বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করছে।”
হামের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কেও প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যেই হামের টিকা আমদানি করেছে এবং আগামী রবিবার থেকে দেশব্যাপী শিশুদের টিকা প্রদানের কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আসবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াছিন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি কর্মকর্তা ফরিদা বেগম। এছাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকও বক্তব্য রাখেন।
চলতি মৌসুমে আউশ ধান ও পাট চাষ বৃদ্ধিতে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কুলিয়ারচরের মোট ৩ হাজার ৭০০ কৃষককে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০০ কৃষককে জনপ্রতি ৫ কেজি আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। বাকি ১ হাজার ৯০০ কৃষককে উন্নত তোষা পাটের বীজ হিসেবে ১ কেজি করে বিতরণ করা হয়।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রণোদনা কর্মসূচি এবং বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণের মাধ্যমে আউশ ধান ও পাট চাষে উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে, যা স্থানীয় কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


