ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা ঘিরে ইসলামাবাদে কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা ঘিরে ইসলামাবাদে কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘ সময় ধরে চলমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের সংঘাত-পরিস্থিতির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা আজ শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও কূটনৈতিক এলাকাগুলোতে চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আলোচনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদে দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের কূটনৈতিক জোন, প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈঠক চলাকালে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন সাবেক প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার। ইরানের পক্ষে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর, ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী আকবর আহমাদিয়ান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেম্মাতিসহ শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা।

ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর এক বিবৃতিতে জানায়, আলোচনায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান হবে পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তারা আস্থা সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরে। তাদের মতে, পূর্ববর্তী আলোচনাগুলো কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ঘাটতি দেখা গেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনাকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মার্কিন পক্ষ আলোচনাকে সম্ভাব্যভাবে ইতিবাচক অগ্রগতির সুযোগ হিসেবে দেখলেও চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

আলোচনার আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়ে আলোচনা সামনে আসে, যা দুই সপ্তাহ মেয়াদি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতির আওতা এবং বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। একই সময় আঞ্চলিক অন্যান্য সংঘাত পরিস্থিতিও আলোচনার পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক উত্তেজনাও আলোচনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান ও পূর্ববর্তী চুক্তি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার ফলাফল নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক কেবল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আলোচনার ফলাফল নির্ভর করবে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ