অপরাধ ও আইন ডেস্ক
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় একটি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটে মহিষের আকস্মিক আক্রমণে চিকিৎসাধীন আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ওই একই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইজনে। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মজিবুর রহমান (৫০) নামের ওই ব্যক্তি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে গত রবিবার ঘটনার দিনই রুহুল আমিন (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন।
নিহত মজিবুর রহমান দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী এলাকার চর মাদার গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে। অপর নিহত রুহুল আমিন পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার জাউনিয়ার কড়াইডাঙ্গীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা এবং গবাদিপশু নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় খামারি ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (২৪ মে) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী কোরবানির পশুর হাটে স্থানীয় আকন্দপাড়া গ্রামের এক বিক্রেতা বিক্রির উদ্দেশ্যে কয়েকটি মহিষ নিয়ে আসেন। হাটে তোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি মহিষ হঠাৎ অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং বিক্রেতার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে মহিষটি সম্পূর্ণ অবাধ্য হয়ে দড়ি ছিঁড়ে পুরো হাটজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ শুরু করে। আকস্মিক এই ঘটনায় হাটে আসা ক্রেতা, বিক্রেতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই প্রাণভয়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন।
উত্তেজিত মহিষটির শিংয়ের আঘাতে এবং পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই রুহুল আমিনসহ অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হন। উপস্থিত লোকজন আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করলে মহিষটি আরও সহিংস হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজিবপুরের বাসিন্দা রুহুল আমিনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তিনি মারা যান।
অন্যদিকে, গুরুতর জখম হওয়া মজিবুর রহমানকে ঘটনার পরপরই প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যার দিকে তিনি মারা যান। এই ঘটনায় আহত অন্যান্য ব্যক্তিরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পশুর হাটে এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো সানন্দবাড়ী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঈদুল আজহার প্রাক্কালে পশুর হাটগুলোতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষের ভিড় এবং গবাদিপশু ব্যবস্থাপনায় ইজারাদারদের গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। জনাকীর্ণ হাটে মহিষের মতো বড় ও শক্তিশালী পশু ওঠানোর ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রবিবার সানন্দবাড়ী হাটে মহিষের আক্রমণে আহত মজিবুর রহমান সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এই বন্য আচরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সর্বমোট দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
থানায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কিংবা হাট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ পুরো ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পশুর হাটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


