ইরানের নতুন সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের হুঁশিয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত

ইরানের নতুন সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের হুঁশিয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে নিজেদের অপ্রকাশিত সামরিক সক্ষমতা প্রকাশ করা হবে বলে সতর্ক করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, যেখানে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতিও চলছে।

আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান এখনো তাদের সামরিক সক্ষমতার একটি বড় অংশ প্রকাশ করেনি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের ক্ষেত্রে দেশটি এমন আধুনিক যুদ্ধ কৌশল ব্যবহার করতে পারে, যার মোকাবিলা প্রতিপক্ষের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সামরিক পরিকল্পনা বা প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেননি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আইআরজিসির এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও উভয় পক্ষই সরাসরি বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক চ্যানেল সচল রাখার চেষ্টা করেছে।

এদিকে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হলেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, আলোচনায় আংশিক অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষই পরবর্তী দফা বৈঠকের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।

জানা গেছে, আগামী বৃহস্পতিবার নতুন করে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এতে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা প্রশমনের একটি রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল ধারণা করছে। প্রস্তাবিত আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়ে আনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

সূত্রগুলো আরও জানায়, ছয় সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাত পরিস্থিতি নিরসনের উদ্দেশ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টা চলছে। যদিও সংঘাতের প্রকৃতি ও পক্ষগুলো সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পরও দেশটি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান এবং যোগাযোগ সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগকে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সম্ভাব্য পরবর্তী বৈঠকের স্থান হিসেবে আবারও ইসলামাবাদের নাম আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে জেনেভাকেও বিকল্প স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে অতীতেও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাসমূহ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থান নির্ধারণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইআরজিসির সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি মূলত কূটনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে একটি চাপ সৃষ্টির কৌশল হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমান্তরালভাবে চলমান আলোচনার ইঙ্গিত আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনাও তুলে ধরছে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থান ও আস্থার ঘাটতি থাকায় চূড়ান্ত সমঝোতা কত দ্রুত সম্ভব হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে, কারণ এই আলোচনার ফলাফল মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ