পারমাণবিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে: জেডি ভ্যান্স

পারমাণবিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে: জেডি ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হবে কি না, তা পুরোপুরি তেহরানের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, আলোচনার অগ্রগতি, চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ—সবকিছুতেই ইরানের সিদ্ধান্তই নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট—ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (যা সাধারণভাবে যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নামে পরিচিত) থেকে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তীতে সরে আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালানো হলেও এখনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ইরানকেই নিতে হবে। তাঁর ভাষায়, সরাসরি আলোচনার অগ্রগতি এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে এখন মূল ভূমিকা তেহরানের হাতে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি কাঠামো চায় যেখানে ইরান স্পষ্টভাবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দেবে।

ভ্যান্স আরও বলেন, ইরান যদি এই শর্তে সম্মত হয়, তবে দুই দেশের জন্যই উপকারী একটি সমঝোতা সম্ভব হতে পারে। তবে ইরান যদি এতে রাজি না হয়, সেটিও তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়।

তিনি জানান, সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ সময়ব্যাপী আলোচনায় কিছু অগ্রগতি দেখা গেলেও তা চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী ওই আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি, বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিতকরণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা রোধের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতায় ছিলেন না বলে তিনি দাবি করেন। ফলে তাদের তেহরানে ফিরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।

ভ্যান্সের মতে, আলোচনায় কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও তা চুক্তির পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট অগ্রগতি তৈরি করতে পারেনি। তিনি বলেন, ইরান কিছু ক্ষেত্রে অগ্রসর হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও জানান, এখনো একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগ বিদ্যমান রয়েছে। তবে সেই সুযোগ বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব ইরানের ওপরই বর্তায়।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে ইরানের কিছু পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনে প্রভাব ফেলছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবস্থান বা সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতি হলেও আস্থা সংকট, নিষেধাজ্ঞা ইস্যু এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনার গতি ও সফলতা মূলত দুই দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও পারস্পরিক আস্থার ওপর নির্ভর করবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ