বাংলাদেশ ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর–ঢাকা রুটে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন স্থানীয় দুই সংসদ সদস্য। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান একটি ডিও লেটারের মাধ্যমে দাবি উপস্থাপন করেন। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-1 আসনের সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলী উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতে উপস্থাপিত দাবিতে বলা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং রেলওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। এই স্টেশন দিয়ে নিয়মিত ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রেন বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যা থেকে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করে থাকে। ফলে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে রহনপুরের কৌশলগত গুরুত্ব দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত।
সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রহনপুরসহ আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষ নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করে থাকেন। তবে বর্তমানে এই রুটে সরাসরি কোনো আন্তঃনগর ট্রেন না থাকায় যাত্রীদের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর অথবা রাজশাহী হয়ে যাতায়াত করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া এবং যাতায়াত ব্যয়ের চাপ বাড়ার মতো সমস্যাও তৈরি হচ্ছে।
প্রস্তাবনায় আরও উল্লেখ করা হয়, রহনপুর থেকে একটি সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলাই নয়, পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষও এর সুফল ভোগ করতে পারবে। একইসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের শিবগঞ্জ উপজেলার জনগণও আধুনিক রেলসেবার আওতায় আসবে, যা আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও কার্যকর করে তুলবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই অঞ্চলে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমও ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত যাতায়াতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে রহনপুরের গুরুত্ব বিবেচনায় রেলপথ উন্নয়ন আঞ্চলিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে।
সংসদ সদস্যরা তাদের দাবিতে জনস্বার্থ ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রহনপুর–ঢাকা রুটে একটি বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।


