কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে বেইজিং সফরে মির্জা ফখরুল ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে বেইজিং সফরে মির্জা ফখরুল ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

রাজনীতি ডেস্ক

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সফরে চীন যাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। পৃথক উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপটে হলেও দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের এই বেইজিং সফরকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের কৌশলগত অবস্থানের বিশেষ অংশ হিসেবে দেখছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আমন্ত্রণে সম্প্রতি বিএনপির ১৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দেশটিতে সফরে গেছে। মির্জা ফখরুল বেইজিংয়ে গিয়ে এই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যুক্ত হবেন। সফরকালে তিনি প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সাথে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন এবং আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলীয় অবস্থান ও সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর বিএনপির উচ্চপর্যায়ের এই সফরকে রাজনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিবের সফরের ঠিক একদিন পরই সোমবার (২০ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠেয় ‘থার্ড হাই-লেভেল কনফারেন্স অব দ্য ফোরাম অন গ্লোবাল অ্যাকশন ফর শেয়ারড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। ২১ ও ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে ২০টিরও বেশি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন।

সরকারি সূত্র মতে, এই সম্মেলন মূলত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করার লক্ষে আয়োজিত। তবে এর নেপথ্যে চীনের ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (জিডিআই) সংক্রান্ত ধারণা ও বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ড. তিতুমীর সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান ও বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব নিয়ে বক্তব্য দেবেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে দেশের প্রধান বিরোধী দল এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টার চীন সফর কেবল সমাপতন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও উন্নয়নে চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন। চীন একদিকে যেমন সরকারের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে চায়, তেমনি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গেও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।

বিএনপি মহাসচিবের সফর প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় চীনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। বিএনপি প্রতিনিধিদল ২২ এপ্রিল এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ২৩ এপ্রিল দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এই জোড়া সফর আগামী দিনে ঢাকা-বেইজিং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ