অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। বেসরকারি খাতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপিজির দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রবিবার (১৯ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই দর ঘোষণা করা হয়, যা আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে।
বিইআরসির তথ্যমতে, একই সঙ্গে পরিবহন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এপ্রিল মাসের শুরুতে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারিত থাকলেও বর্তমানে তা ৯ টাকা ৭৩ পয়সা বাড়িয়ে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক দফায় ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপে পড়লেন সাধারণ ভোক্তারা।
জ্বালানি খাতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিইআরসি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করেছে। সংস্থাটি জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এলপিজি পরিবহনে নিয়োজিত জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে প্রধান রুটগুলো দিয়ে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানিতে সময় এবং জ্বালানি খরচ উভয়ই বহুগুণ বেড়েছে।
এছাড়া যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বীমা কোম্পানিগুলো জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে উচ্চহারে নিরাপত্তা প্রিমিয়াম ও বীমা মাশুল দাবি করছে। বিইআরসির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এলপিজি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সার্বিক ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় জাহাজ ভাড়া এবং ট্রেডারের প্রিমিয়াম চার্জ অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য প্রতি মেট্রিক টন ২৫০ মার্কিন ডলার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় সমন্বয় করতেই অভ্যন্তরীণ বাজারে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এক মাসে দুই দফায় বড় অংকের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং রেস্তোরাঁসহ ক্ষুদ্র শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে রমজান পরবর্তী সময়ে এই বাড়তি খরচ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে পুনরায় মূল্য সমন্বয় করা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এলপিজির মজুত ও সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কঠোর নজরদারি বজায় রাখছে।


