শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ইরানের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার ঘোষণা

শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ইরানের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরান একটি শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্র এবং তেহরান কোনোভাবেই যুদ্ধ বা সংঘাতের বিস্তৃতি চায় না। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি ইরানের গৃহীত সামরিক পদক্ষেপগুলো মূলত দেশি ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে পরিচালিত ‘বৈধ আত্মরক্ষা’। তার মতে, ইরান কখনোই আগ বাড়িয়ে কোনো রাষ্ট্রকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও অন্য কোনো দেশের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা তাদের নেই।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু ও স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন করছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি মানবাধিকারের ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বের ‘দ্বিমুখী আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রতিটি রাষ্ট্রের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং ইরান কেবল সেই অধিকারেরই প্রয়োগ ঘটাচ্ছে।

আইএসএনএ বার্তা সংস্থার বরাতে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, “আমরা কোনো দেশ আক্রমণ করিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতেও কারও ওপর হামলার ইচ্ছা আমাদের নেই। তবে একজন মানুষ যেমন তার ওপর আসা আক্রমণের জবাব দেয়, একটি রাষ্ট্রকেও একইভাবে হামলার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হয়।” তার এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, ইরান বর্তমান উত্তজনা নিরসনে আগ্রহী হলেও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে। একদিকে ইসরায়েলের সাথে চলমান সংঘাত এবং অন্যদিকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কারণে এই অঞ্চলটি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল। পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য মূলত বিশ্বদরবারে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইরান কেবল আক্রান্ত হলেই পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং তাদের মূল লক্ষ্য যুদ্ধ নয়, বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা কেবল প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে তৈরি। তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা এই অঞ্চলের প্রকৃত পরিস্থিতি অনুধাবন করেন এবং একতরফা সামরিক তৎপরতা বন্ধে উদ্যোগী হন। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

ইরানের এই অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান সংকটে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। একদিকে তেহরান যখন শান্তির বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েল ও পশ্চিমা মিত্রদের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠছে, পেজেশকিয়ানের এই কূটনৈতিক অবস্থান কি অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে সক্ষম হবে, নাকি ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা আরও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে। তবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আসা এই শান্তির বার্তাটি বর্তমানে বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ