ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক লক্ষ্য

ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক লক্ষ্য

রাজনৈতিক ডেস্ক

রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। শুক্রবার বিকেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তিনি ক্যাম্পাসগুলোতে মেধাভিত্তিক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা এবং সমসাময়িক দলগুলোর রাজনৈতিক আচরণের সমালোচনা করেন।

বক্তব্যের শুরুতে আসিফ মাহমুদ বিগত বছরগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের প্রভাব এবং কর্মকাণ্ডের প্রতি আলোকপাত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকে ছাত্রলীগ যেভাবে ক্যাম্পাসগুলোতে একক আধিপত্য ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিল, তার নেতিবাচক প্রভাব এখনও দৃশ্যমান। তাঁর মতে, বর্তমানে পুনরায় ক্যাম্পাসগুলোতে মেধা ও যোগ্যতার রাজনীতির পরিবর্তে দখলদারিত্বের পুরোনো সংস্কৃতি ফিরে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং একটি সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই প্রবণতা রোধ করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এনসিপির লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মুখপাত্র বলেন, রাজনৈতিক লড়াই এখনও শেষ হয়নি, বরং এটি আরও দীর্ঘমেয়াদী রূপ নিয়েছে। দেশে জবাবদিহিমূলক রাজনীতি এবং মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম শুরু হয়েছে, তা সফল করতে দেশজুড়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তিনি দলের নেতাকর্মীদের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে সমাজের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি যারা বিগত সময়ের স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড বা কোনো প্রকার জনবিরোধী অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না, তাদের এনসিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির দল হিসেবে এনসিপিকে গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আসিফ মাহমুদ দলের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে এনসিপির প্রতি যে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে, তা ভোটের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চায় দলটি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ নির্মাণের রূপরেখা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জনমানুষের আস্থাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করাই হবে আগামী নির্বাচনের মূল চ্যালেঞ্জ।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আসিফ মাহমুদ দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির বর্তমান কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, স্বাধীনতার পরবর্তী সময় এবং পরবর্তী দশকগুলোতে বিএনপির যে রাজনৈতিক আদর্শ দেখা গিয়েছিল, বর্তমান দলটির মাঝে তার বিচ্যুতি ঘটছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক ভাষা এবং কৌশল অনেকটা আওয়ামী লীগের ঘরানার অনুসারী হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বাহাত্তরের সংবিধান এবং অন্যান্য মৌলিক রাজনৈতিক ইস্যুতে দলটির অবস্থান বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের অবস্থানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সামগ্রিকভাবে, আসিফ মাহমুদের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে তিনি ক্যাম্পাসগুলোতে দখলদারিত্ব মুক্ত সুস্থ রাজনীতির ডাক দিয়েছেন, অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দলগুলোর অবস্থানের সমালোচনা করে এনসিপিকে একটি স্বতন্ত্র ও আদর্শিক বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এনসিপি সামনের দিনগুলোতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে এই যোগদান অনুষ্ঠানে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ