জাতীয় ডেস্ক
দেশের বর্তমান ভোজ্যতেল পরিস্থিতির জন্য সরবরাহ ঘাটতি নয়, বরং একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কালোবাজারি দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এই মন্তব্য করেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সংকটের নেপথ্যে থাকা কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং এলজিইডি ও জেলা পরিষদের অর্থায়নে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তজনা এবং সংঘাতের প্রভাবে সারা বিশ্বই কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও একটি গোষ্ঠী ব্যক্তিগত মুনাফার লোভে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তিনি বলেন, “দেশে সরবরাহের জন্য তেলের সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। এই সমস্যাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। কিছু মানুষ এখানে অনৈতিক ব্যবসা শুরু করেছে, যা রাষ্ট্র ও জাতির জন্য চরম ক্ষতিকর।”
ব্যবসায়ীদের এই অনৈতিক তৎপরতাকে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে তিনি আরও বলেন, একশ্রেণীর অসাধু চক্র মজুতদারি এবং কালোবাজারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। এই অপতৎপরতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং তেলের অবৈধ মজুত বন্ধে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কালোবাজারির সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের তৎপরতা সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের দুর্যোগকালীন সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য সরকারি সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে। সেই সঙ্গে স্থানীয় সরকার ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পিত কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি বরাদ্দ সুষম বণ্টনের নিশ্চয়তা প্রদান করেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ এবং পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে ঢেউটিন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছে চেক ও উন্নয়ন কাজের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এবং বাজার সিন্ডিকেট নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


