উত্তরায় রেস্টুরেন্টে পুলিশের অভিযান: আটক ১৪০

উত্তরায় রেস্টুরেন্টে পুলিশের অভিযান: আটক ১৪০

অপরাধ ডেস্ক

রাজধানীর উত্তরায় একটি রেস্টুরেন্ট ও বারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৪০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) গভীর রাতে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অবৈধভাবে মাদক বিক্রি এবং লাইসেন্সবিহীন মদ্যপানের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ওই রেস্টুরেন্টটিতে দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাত পর্যন্ত অসামাজিক কার্যক্রম এবং অবৈধভাবে মাদক কেনাবেচা চলছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশ নেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বৈধ মদ্যপানের লাইসেন্স আছে কি না, তা যাচাই করা হয়। তল্লাশিকালে যাদের কাছে বৈধ পারমিট বা লাইসেন্স পাওয়া যায়নি, মূলত তাদেরকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিকটস্থ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির বার পরিচালনার প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমোদন থাকলেও সেখানে অনুমোদিত সময়ের বাইরে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। এছাড়া অভিযানে এমন অনেককে পাওয়া গেছে যারা আইনগত কোনো অনুমতি ছাড়াই মদ্যপান করছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই-বাছাই শেষে যাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র ছিল, তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই আবাসিক এলাকায় এই ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছিল। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে বহিরাগতদের আনাগোনা এবং উচ্চশব্দে গান-বাজনার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল। ইতিপূর্বে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল বলে জানা যায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা এই অভিযানের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাজধানীতে মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্মূলে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় বা অননুমোদিতভাবে যেখানেই এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেখানেই অভিযান চালানো হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। রাজধানীর অন্যান্য এলাকার অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

উত্তরা এলাকায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ এবং আটককৃতদের বিরুদ্ধে কোন কোন ধারায় মামলা করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। শুক্রবার সকালে আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ওই রেস্টুরেন্ট ও বারটি সিলগালা করা হবে কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। পুলিশ জানায়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কিশোর-তরুণদের মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে এ ধরনের আকস্মিক অভিযান নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ