অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালীকরণ এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। শুক্রবার ম্যানিলাভিত্তিক এই উন্নয়ন সহযোগীর সদর দপ্তরে এই ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়। মূলত দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যের ঝুঁকি হ্রাস এবং একটি টেকসই সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
এডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘সেকেন্ড স্ট্রেনদেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় উপ-পর্যায়ের (সাব-প্রোগ্রাম-২) আওতায় এই ঋণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যমান সুরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করে সেটিকে আরও আধুনিক, বৈষম্যহীন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলা। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ কিংবা অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে যারা নিয়মিত ঝুঁকির মুখে থাকে, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এই প্রকল্পের অন্যতম অগ্রাধিকার।
প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ থেকে জানা গেছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হবে। এর আওতায় সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনা, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের পরিধি বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি অবদানভিত্তিক বা কন্ট্রিবিউটরি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর পথ প্রশস্ত করা হবে। এর ফলে সরকারি তহবিলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে একটি টেকসই মডেল তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং এক বিবৃতিতে জানান, এই কর্মসূচিটি বাংলাদেশের একটি আধুনিক ও সহনশীল সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য সহায়তার আওতা বাড়ানো এবং অবদানভিত্তিক সুরক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন দারিদ্র্য বিমোচনে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে। এটি কেবল সাময়িক ত্রাণ নয়, বরং মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে সামাজিক সুরক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরাদ্দ থাকলেও প্রায়শই সুবিধাভোগী নির্বাচন এবং বিতরণে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ ওঠে। এডিবির এই ঋণের শর্ত অনুযায়ী যদি প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায়, তবে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে সরকারি সহায়তার সুফল পৌঁছানো আরও সহজ হবে। বিশেষ করে শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠী যারা অনেক সময় সামাজিক নিরাপত্তার আওতার বাইরে থেকে যায়, তাদের অন্তর্ভুক্ত করা এই সংস্কারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সামাজিক সুরক্ষা একটি অপরিহার্য খাত। এডিবি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের এই খাতে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এবারের ঋণ প্যাকেজটি কোভিড-উত্তর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন হলে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়েই বিশাল এক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। এডিবি এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যকার এই চুক্তিটি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের দারিদ্র্য বিমোচনের হার ত্বরান্বিত করতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


