অবৈধ হজযাত্রীদের আবাসন ও পরিবহন সুবিধা দিলে কঠোর শাস্তির ঘোষণা সৌদি আরবের

অবৈধ হজযাত্রীদের আবাসন ও পরিবহন সুবিধা দিলে কঠোর শাস্তির ঘোষণা সৌদি আরবের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি আরবে ভিজিট বা দর্শনার্থী ভিসায় আগত ব্যক্তিদের অবৈধভাবে হজ পালনে সহায়তা করার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। গতকাল শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিধি বহির্ভূতভাবে হজ করতে আসা ব্যক্তিদের আবাসন বা পরিবহনের ব্যবস্থা করলে দায়ী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল জরিমানা গুনতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকার বেশি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত আদেশে জানানো হয়েছে, যারা ভিজিট ভিসাধারী হজযাত্রীদের হোটেল, অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যক্তিগত বাসভবন বা অন্য কোনো ধরনের আশ্রয়স্থলে থাকার ব্যবস্থা করবেন, তাদের ওপর এই বিপুল অংকের জরিমানা কার্যকর করা হবে। একইসঙ্গে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন বা হজ পারমিট ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে মক্কা কিংবা অন্যান্য পবিত্র স্থানে লুকিয়ে থাকতে বা যাতায়াতে সহযোগিতা করলেও সমপরিমাণ শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সৌদি আরবের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পুরো হজ মৌসুম জুড়ে অর্থাৎ জিলকদ মাসের শুরু থেকে জিলহজ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। মূলত হজের পবিত্রতা রক্ষা এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হজ পালনের জন্য প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে সমবেত হন। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েক বছর আগে থেকেই সৌদি সরকার হজযাত্রীদের জন্য পৃথক ‘হজ ভিসা’ ব্যবস্থা চালু করেছে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট হজ ভিসা ব্যতীত অন্য কোনো ভিসায় (যেমন- পর্যটন বা ভিজিট ভিসা) হজ পালন করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

তবে কঠোর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিক দর্শনার্থী ভিসায় সৌদি আরবে প্রবেশ করে হজের চেষ্টা করেন। যথাযথ অনুমোদন না থাকায় প্রতি বছরই শত শত ব্যক্তিকে আটক করে নিজ দেশে ফেরত পাঠায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। অনেক ক্ষেত্রে দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে সাধারণ মানুষ এ ধরনের আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এই সমস্যার সমাধানে নাগরিকদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা প্রয়োজন। কোনো সৌদি নাগরিক বা দেশটিতে বসবাসরত অন্য দেশের নাগরিক যদি অবৈধভাবে হজযাত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থা সংক্রান্ত কোনো তথ্য জেনে থাকেন, তবে তা অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আবাসন ও পরিবহন খাতের ওপর এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে অবৈধভাবে হজ করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। যারা বিধি ভেঙে এই ধরনের কাজে যুক্ত হবে, তাদের ওপর আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ড বা দেশান্তরের মতো কঠিন শাস্তিও আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। হজের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিবন্ধিত হাজিদের সুযোগ-সুবিধার সুরক্ষা দিতেই রিয়াদ এই কঠোর অবস্থানে অনড় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ