দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দামে বড় পতন: ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা

দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দামে বড় পতন: ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দামে বড় ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা (পিওর গোল্ড) ও রুপার দাম হ্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী আজও লেনদেন চলছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দামে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা এবং রুপার দামে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

বাজুসের মূল্য নির্ধারণ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে মানভেদে সোনার দামের চিত্র নিম্নরূপ: সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এর আগে এই মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। অর্থাৎ ভরিতে দাম কমেছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনা ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সনাতন পদ্ধতির সোনার নতুন বাজারদর নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা।

মূল্যবান এই ধাতুর বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ এপ্রিল সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে আড়াই লাখ টাকার সীমা অতিক্রম করা হয়েছিল। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার সরবরাহ ও চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পুনরায় দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস।

চলতি ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সোনার দাম মোট ৫৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ বার দাম বৃদ্ধি করা হলেও ২৪ বার কমানোর ঘটনা ঘটেছে। গত ২০২৫ সালের তুলনায় এ বছর সোনার বাজারে অস্থিরতা কিছুটা দৃশ্যমান। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বছরজুড়ে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

সোনার পাশাপাশি রুপার বাজারেও বড় দরপতন হয়েছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী রুপার নতুন দাম হচ্ছে: ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির রুপা এখন ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। চলতি বছর রুপার দাম মোট ৩৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ বার বৃদ্ধি এবং ১৬ বার হ্রাসের রেকর্ড রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর রুপার দাম পরিবর্তনের হার অনেক বেশি, কারণ ২০২৫ সালে মাত্র ১৩ বার এই ধাতুর দাম সমন্বয় করা হয়েছিল।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে কাঁচামালের সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করেই বাজুস এই দাম নির্ধারণ করেছে। সোনার দাম আড়াই লাখ টাকার রেকর্ড স্তর থেকে কিছুটা নিচে নেমে আসায় সাধারণ ক্রেতা ও অলঙ্কার ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে রুপার দামের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন সাধারণ গহনা শিল্পে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশে জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই নতুন মূল্য তালিকা কার্যকর থাকবে। স্থানীয় বাজারে সোনার বিশুদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে এই দাম আবারও পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ