এ কে ফজলুল হক ছিলেন অসাধারণ প্রজ্ঞাবান ও অসম সাহসী: রাষ্ট্রপতি

এ কে ফজলুল হক ছিলেন অসাধারণ প্রজ্ঞাবান ও অসম সাহসী: রাষ্ট্রপতি

 

জাতীয় ডেস্ক

উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ এবং অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এই মহান নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি শেরেবাংলাকে এক অসাধারণ প্রজ্ঞাবান, অসম সাহসী ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন বাংলার সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের এক আপসহীন কণ্ঠস্বর। অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলার কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, “বাংলার বাঘ হিসেবে খ্যাত এ কে ফজলুল হক কেবল একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এ অঞ্চলের মানুষের আত্মপরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অন্যতম পথপ্রদর্শক।”

শেরেবাংলার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, তিনি বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য থেকে শুরু করে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি, কলকাতার মেয়র, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে পূর্ব বাংলার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিরলস কাজ করে গেছেন। তাঁর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মজীবনে তিনি সমাজসংস্কার ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার যে নজির স্থাপন করেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়।

রাষ্ট্রপতি শেরেবাংলার ঐতিহাসিক অবদানসমূহ তুলে ধরে বলেন, বাংলার শোষিত ও নির্যাতিত কৃষক সমাজকে মহাজনি ঋণের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে তাঁর উদ্যোগে গঠিত ‘ঋণ সালিশি বোর্ড’ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। এ ছাড়াও প্রজাস্বত্ব আইন, মহাজনি আইন এবং দোকান কর্মচারী আইনের মতো জনকল্যাণমুখী আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি অবহেলিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রেখে গেছেন। শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য, যা এ অঞ্চলের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হয়েছে।

১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে মুসলিম লীগের সম্মেলনে শেরেবাংলা যে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন, তার মধ্যেই নিহিত ছিল বাঙালির আত্মপরিচয়ের সন্ধান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন। তাঁর সেই রাজনৈতিক দূরদর্শিতা পরবর্তীকালে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিবিদরা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের জীবনাদর্শ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দর্শনকে অনুসরণ করবেন। তিনি বলেন, “শেরেবাংলার আদর্শকে ধারণ করে কৃষক-শ্রমিক তথা মেহনতি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের মাধ্যমে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

বাণীতে রাষ্ট্রপতি মরহুম এ কে ফজলুল হকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির অগ্রগতিতে তাঁর ঐতিহাসিক ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। দিনটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শেরেবাংলার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে জাতি আজ এই মহান নেতাকে স্মরণ করছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ