চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা সরঞ্জামে নাশকতার দায়ে আটক ২: নেপথ্যে বকেয়া বেতন নিয়ে ক্ষোভ

চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা সরঞ্জামে নাশকতার দায়ে আটক ২: নেপথ্যে বকেয়া বেতন নিয়ে ক্ষোভ

স্পোর্টস ডেস্ক

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ম্যাচ চলাকালীন বেঙ্গালুরুর এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। স্টেডিয়ামের অন্তত ২৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরা অচল করে দেওয়ার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বকেয়া বেতন না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে এই দুই কর্মী সুপরিকল্পিতভাবে স্টেডিয়ামের নজরদারি ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম গুজরাট টাইটান্সের মধ্যকার ম্যাচ চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। আটককৃতরা হলেন ৩৭ বছর বয়সী মানজুনাথ এবং ১৯ বছর বয়সী আব্দুল কালাম। তারা উভয়ই ভেন্যুর ডিজিটাল ও সার্ভেইল্যান্স সার্ভিসের জন্য চুক্তিবদ্ধ সাব-ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ‘আইভিএস ডিজিটাল সলিউশনস’-এ কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, তারা দুজন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সংরক্ষিত সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমে প্রবেশ করেন এবং নেটওয়ার্ক ভিডিও রেকর্ডার (এনভিআর) সিস্টেম ও ফাইবার অপটিক লিঙ্কের গুরুতর ক্ষতি সাধন করেন।

এই নাশকতার ফলে স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরীণ ও বহির্ভাগ মিলিয়ে দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা অচল হয়ে পড়ে। আইপিএলের মতো একটি হাই-প্রোফাইল আসরে, যেখানে হাজার হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে, সেখানে এই ধরনের নিরাপত্তা বিপর্যয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় গুরুগ্রাম ভিত্তিক এআই সার্ভেইল্যান্স ফার্ম ‘স্টাকু টেকনোলজিস’-এর কর্মী আদিত্য ভাট একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।

পুলিশের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি কন্ট্রোল রুম এবং পার্কিং জোনের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে অবস্থিত কানেকশন বক্সের কাছে অবস্থান করছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযুক্তরা পুলিশকে জানিয়েছে, তাদের প্রায় ১০ লাখ রুপির বেতন বকেয়া ছিল। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও বেতন পরিশোধ না করায় চরম হতাশা থেকে তারা এমন ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নিয়েছেন। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা এই কান্ড ঘটিয়েছেন।

বেঙ্গালুরু পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “নিরাপত্তা সরঞ্জামের ওপর হস্তক্ষেপ একটি গুরুতর অপরাধ, বিশেষ করে যখন স্টেডিয়ামের ভেতরে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় এবং ভিভিআইপিরা উপস্থিত ছিলেন। বকেয়া বেতন নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তার সমাধানের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে, কিন্তু নাশকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” ঘটনার গভীরতা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ আরও বিশদ তদন্ত শুরু করেছে যে, এর পেছনে কোনো বৃহত্তর চক্রান্ত বা অন্য কারো উসকানি ছিল কি না।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার আগেই লজিস্টিক্যাল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আইপিএলের সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু তাদের হোম গ্রাউন্ড চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের নির্ধারিত ম্যাচগুলো ইতোমধ্যে শেষ করেছে। পরবর্তী হোম ম্যাচগুলো রায়পুরের নতুন ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই নাশকতার ঘটনা স্টেডিয়ামের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং কর্মীদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ