ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ

ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক সম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করার লক্ষে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই আনুষ্ঠানিক বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধি পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীনের অব্যাহত সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পায়। উভয় পক্ষই এই মর্মে একমত পোষণ করেন যে, দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সহযোগিতা কেবল দুই দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার এই কৌশলগত বন্ধন মূলত দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা। চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের উন্নয়নে তার দেশের পক্ষ থেকে কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা বৃদ্ধির আশ্বাস দেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক আস্থার প্রশংসা করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ বাংলাদেশের ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ বিনিময় কর্মসূচির অংশীদার। প্রযুক্তিগত দক্ষতা হস্তান্তর এবং উন্নত সামরিক সরঞ্জামের সমন্বয়ে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

পরিশেষে, উভয় পক্ষই দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান নিবিড় সামরিক সম্পর্ক ও কৌশলগত বন্ধনকে আগামীতে আরও সুদৃঢ় ও কার্যকর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই আলোচনা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ