যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যা: রুমমেটের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যা: রুমমেটের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত খুনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ফ্লোরিডার একটি আদালত শুনানি শেষে অভিযুক্তের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্তকারী সংস্থা হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন লিমন ও বৃষ্টি। ১৭ এপ্রিল নিখোঁজের ডায়েরি হওয়ার পর অনুসন্ধানে নেমে গত শুক্রবার টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছ থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এদিকে নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব না হলেও লিমনের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ রক্তের আলামত পাওয়ার পর পুলিশ তাকেও মৃত বলে ধারণা করছে।

আদালতের নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত। প্রসিকিউটরদের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তথ্য-প্রমাণ গোপনের চেষ্টা করেছিলেন। তবে লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া ফরেনসিক আলামত এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে হিশামের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে দুটি খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিহত জামিল লিমন দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে এবং নাহিদা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে গবেষণারত ছিলেন। তারা দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং পারিবারিকভাবে বিয়ের কথা চলছিল। আগামী গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদের দেশে ফেরার পরিকল্পনাও ছিল। মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কমিউনিটি এবং বাংলাদেশে তাদের নিজ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, লিমনকে শেষবার ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী তার ফ্ল্যাটে এবং বৃষ্টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনে দেখা গিয়েছিল। কেন এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে। নিখোঁজ বৃষ্টির সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক দল উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। ফ্লোরিডার আইনি কাঠামো অনুযায়ী, এই পর্যায়ের অপরাধে অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ