২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু: সারা দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে

২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু: সারা দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে

স্বাস্থ্য ডেস্ক

সারা দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৭৬ জনের শরীরে সন্দেহজনক হামের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষায়িত কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সবশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এই ৯ শিশুর মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ৩ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২ জন, ঢাকা বিভাগে ২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জন রয়েছে। অন্যদিকে, ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম আক্রান্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এই রোগ প্রতিরোধে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। তবে গত কয়েক সপ্তাহের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে সংক্রমণের হার বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত বছরের এই সময়ে হামের প্রকোপ কিছুটা বাড়লেও এবারের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়মিত ল্যাবরেটরি পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে যে অঞ্চলগুলোতে সংক্রমণের হার বেশি, সেখানে বাড়তি নজরদারি এবং জরুরি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

হামের লক্ষণ হিসেবে সাধারণত তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ দেখা দেয়। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, কোনো শিশুর মধ্যে এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। হাম পরবর্তী জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া বা মারাত্মক শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

চলমান এই সংক্রমণ প্রতিরোধে অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রতি শিশুদের নিয়মিত টিকাদান সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যেসব শিশু এখনো হামের টিকা (এমআর) গ্রহণ করেনি, তাদের দ্রুততম সময়ে টিকার আওতায় আনা জরুরি। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত বিচ্ছিন্নকরণ (আইসোলেশন) নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সন্দেহভাজন রোগীদের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। হাসপাতালগুলোতে হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিশেষায়িত কর্নার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সরকার এবং স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আশা করছে, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই প্রাদুর্ভাব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ