অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরেক দফা কামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। মানভেদে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।
বাজুস সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যের অস্থিরতা এবং দেশের বুলিয়ন মার্কেটের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ কমিটি নিয়মিত এই দাম সমন্বয় করে থাকে।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের পাশাপাশি ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায়। তবে স্বর্ণের দাম কমলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আগের মতোই ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। যুদ্ধের শুরু থেকেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বর্তমানে তা কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বর্তমানে ৪ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। বিশ্ববাজারের এই পরিবর্তনের প্রভাব স্থানীয় বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন এবং স্থানীয় যোগান বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় থাকার পর এই হ্রাস সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। তবে বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে এই দাম পুনরায় ওঠানামা করার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজারদর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত হয়, যা দেশের জুয়েলারি খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


