জাতীয় ডেস্ক
মহান মে দিবস উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার (১ মে) রাজধানী ঢাকায় এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকার কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে এটিই হবে তার প্রথম সরাসরি অংশগ্রহণ ও ভাষণ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তারা সমাবেশের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং প্রস্তুতির সার্বিক দিক গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ঐতিহাসিক মে দিবস শ্রমিক শ্রেণির অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক। এই দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষা এবং জাতীয় উন্নয়ন ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সমাবেশের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য দাবিদাওয়া আদায়ের আন্দোলনকে আরও বেগবান করার সংকল্প ব্যক্ত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, আগামীকাল শুক্রবার বেলা ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হবে। সমাবেশ সফল করতে ইতিমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মে দিবসের এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক এবং সাধারণ জনতা যোগ দেবেন বলে দলীয় পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল শ্রমিক দলের কর্মসূচি নয়, বরং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি একটি বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকার সমাবেশে তারেক রহমানের প্রথম এই ভাষণটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মে দিবসের শ্রম অধিকারের প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে তিনি নতুন কোনো বার্তা দেন কি না, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপগুলো নিয়ে তার বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। শ্রমিক দলের পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও এই কর্মসূচি সফল করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। সমাবেশের জন্য ইতিমধ্যে অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে এবং মাইক সংযোগসহ আনুষঙ্গিক কারিগরি প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামীকালকের এই শ্রমিক সমাবেশকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের জেলাগুলো থেকে আসা শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এই সমাবেশ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। মে দিবসের এই ঐতিহাসিক দিনে শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য ও সংহতির বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই সমাবেশের মূল লক্ষ্য বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।


