জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে একটি মহল দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি এসব অপতৎপরতা প্রতিহত করে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মে দিবসের এই সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিগত সরকারের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ সময় এ দেশের সাধারণ মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। গত স্বৈরাচারী সরকার দেশের অর্থনীতিকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করে তুলেছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত হয়েছে।
গণতন্ত্রের পথে বর্তমান অভিযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো একটি বিশেষ মহলের পছন্দ নয়। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যখনই গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে, কিছু মহল তাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তারা চায় না এ দেশের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হোক। অতীতের ধারাবাহিকতায় তারা আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশকে বিতর্কিত ও বন্ধুহীন করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত রয়েছে।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায় এবং বহির্বিশ্বে দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চায়, তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। যেকোনো মূল্যে ষড়যন্ত্রকারীদের অশুভ ইচ্ছা নস্যাৎ করে দেওয়া হবে এবং অতীতে যেভাবে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো হয়েছে, ষড়যন্ত্রকারীদের ক্ষেত্রেও একই রকম জবাব দেওয়া হবে।
শ্রমিকদের উন্নয়ন ও বেকারত্ব নিরসনে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। তিনি বলেন, “শ্রমিক ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হয়।” এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং নতুন নতুন বাজার তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণ করবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং একটি সমৃদ্ধশালী ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দেশ গঠনে শ্রমিক শ্রেণিকে প্রধান শক্তি হিসেবে অভিহিত করে তাদের অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সমাবেশটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্ব বহন করে।


