লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ আরও ৩৯ জন নিহত

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ আরও ৩৯ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দফায় দফায় চালানো অভিযানে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের সাকসাকিয়েহ শহরে একটি আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নাবাতিয়ে এলাকায় একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে তিন দফা ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে একজন সিরীয় নাগরিক নিহত হন এবং তার ১২ বছর বয়সী কন্যা গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

লেবানন সরকারের সংগৃহীত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে নারী ও শিশুসহ ১২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গত ২ মার্চ থেকে চলমান এই সংঘাতে দেশটিতে মোট নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৭৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই প্রাণহানি লেবাননের বেসামরিক অবকাঠামো ও জনজীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

ইসরায়েলি সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের এই অভিযান মূলত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিচালিত। বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানে ড্রোন এবং রকেট হামলা চালিয়েছে। উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে।

গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির রূপরেখা ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে ইসরায়েলি স্থলবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত বরাবর প্রায় ১০ কিলোমিটার ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। যুদ্ধের তীব্রতায় দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন অনেক গ্রাম ও জনপদ প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজা উপত্যকার পরিস্থিতির সঙ্গে এই ধ্বংসলীলার সাদৃশ্য খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো লেবাননে বেসামরিক জনপদ ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ধ্বংসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নির্বিচারে এই হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে বলে সংস্থাগুলো সতর্কবার্তা দিয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক সমাধানের বিকল্প নেই। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষই নমনীয় হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ