তুরস্কের কোনিয়া ওআইসি ইউথ ক্যাপিটাল সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ছেড়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

তুরস্কের কোনিয়া ওআইসি ইউথ ক্যাপিটাল সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ছেড়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

তুরস্কের কোনিয়া শহরে আয়োজিত ‘কোনিয়া ওআইসি ইউথ ক্যাপিটাল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এবং দ্বিপাক্ষিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে সরকারি সফরে তুরস্ক যাত্রা করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। রবিবার সকালে তিনি রাজধানী ঢাকা ত্যাগ করেন। এই সফরটি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে যুব উন্নয়ন এবং ক্রীড়া কূটনীতি সম্প্রসারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সফরের মূল কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী তুরস্কের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে যুব শক্তির উন্নয়ন, অত্যাধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণে কারিগরি সহযোগিতা এবং উভয় দেশের খেলোয়াড় ও প্রশিক্ষকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে। বাংলাদেশের ক্রীড়া খাতের আধুনিকায়নে তুরস্কের সফল মডেলগুলো প্রয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করা এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য।

ক্রীড়া কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিমন্ত্রী তুর্কি ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ আলোচনায় বসবেন। ফুটবলে তুরস্কের আন্তর্জাতিক সাফল্য এবং তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ পদ্ধতি বাংলাদেশের ফুটবল কাঠামোতে যুক্ত করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হবে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলার তৈরি এবং কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে তুরস্কের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।

এছাড়া, প্রতিমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইথনোস্পোর্ট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হবেন। এই বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু হবে বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা পুনরুজ্জীবিত করা। দেশীয় খেলাগুলোকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিচিত করার লক্ষ্যে বৈশ্বিক ইথনোস্পোর্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হবে। সফরের অংশ হিসেবে তুরস্কের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ‘একে পার্টি’র প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার একটি সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক তুরস্ক যাত্রার প্রাক্কালে জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে তার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনসংখ্যাগত সুবিধার সময় পার করছে। দেশের বিশাল এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে এই সফর কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, সফরকালে ওআইসি আয়োজিত যুব সম্মেলনে বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিনিধিত্ব ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন প্রতিমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের যুব উন্নয়ন কার্যক্রমের চিত্রও সেখানে উপস্থাপন করা হবে। রাষ্ট্রীয় এই সফর সমাপ্ত করে আগামী ১৪ মে প্রতিমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ