অস্ট্রেলিয়ার উপনির্বাচনে কট্টর ডানপন্থীদের জয়: চাপে লিবারেল পার্টি

অস্ট্রেলিয়ার উপনির্বাচনে কট্টর ডানপন্থীদের জয়: চাপে লিবারেল পার্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের ফ্যারার গ্রামীণ আসনের উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোটের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটেছে। কট্টর ডানপন্থী ও ইসলামবিরোধী হিসেবে পরিচিত ‘ওয়ান নেশন’ পার্টির ঐতিহাসিক জয়ে দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ১৯৪৯ সাল থেকে লিবারেল-ন্যাশনাল জোটের দখলে থাকা এই আসনে বড় ব্যবধানে পরাজয় প্রধান বিরোধী দল লিবারেল পার্টির জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ান নেশন পার্টির প্রার্থী ডেভিড ফার্লি ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ২৮ শতাংশ ভোট। বিপরীতে, লিবারেল পার্টির প্রার্থী মাত্র ১২ শতাংশ এবং গ্রামীণ ন্যাশনাল পার্টির প্রার্থী ১০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ওয়ান নেশন পার্টির জন্য এটি একটি মাইলফলক, কারণ এর মাধ্যমে দলটি ফেডারেল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে তাদের প্রথম আসন নিশ্চিত করল।

নির্বাচনে জয়ের পর ওয়ান নেশন পার্টির নেতা পলিন হ্যানসন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই বিজয় কেবল একটি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দলটি এখন অন্যান্য আসনগুলোর দিকেও নজর দিচ্ছে। তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, পলিন হ্যানসন কট্টর অভিবাসনবিরোধী অবস্থান এবং বিতর্কিত ইসলামবিরোধী মন্তব্যের জন্য দীর্ঘকাল ধরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচিত।

সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এই ফলাফলকে লিবারেল পার্টির জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, উপনির্বাচনে যে দলের কাছে লিবারেল পার্টি পরাজিত হয়েছে, পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে সেই কট্টর ডানপন্থী দলের সঙ্গেই তাদের জোটবদ্ধ হতে হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলধারার দলগুলোর প্রতি ভোটারদের অনাস্থা এবং ডানপন্থী আদর্শের উত্থান অস্ট্রেলিয়ার আগামী সাধারণ নির্বাচনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

এই নির্বাচনের ফলাফলের পেছনে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, তীব্র আবাসন সংকট এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজমান উদ্বেগ ওয়ান নেশন পার্টির পক্ষে জনমত গঠনে সহায়ক হয়েছে। দীর্ঘ সাত দশক ধরে রক্ষণশীল জোটের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফ্যারার আসনে এই বিপর্যয় লিবারেল পার্টির অভ্যন্তরীণ কৌশল ও নেতৃত্বের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

লিবারেল-ন্যাশনাল জোটের এই শোচনীয় পরাজয় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোতে ওয়ান নেশনের মতো তৃতীয় শক্তির প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডানপন্থী দলটির এই অগ্রযাত্রা রুখতে মূলধারার দলগুলো তাদের নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন আনে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। মূলত গ্রামীণ জনপদে জনতুষ্টিবাদী প্রচারণার সাফল্যই এই নির্বাচনের মূল ফলাফল নির্ধারণ করেছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ