বাংলাদেশ-কোরিয়া উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারে কোইকা প্রতিনিধির সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠক

বাংলাদেশ-কোরিয়া উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারে কোইকা প্রতিনিধির সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বের পরিধি বাড়াতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সোমবার সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিমের এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে এই লক্ষ্য ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে কোইকার অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং টেকসই গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল দারিদ্র্য বিমোচন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি। জলবায়ু সহিষ্ণু টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়ার কারিগরি সহায়তা এবং কৃষি খাতের আধুনিকায়নে নতুন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। কোইকার মাধ্যমে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো দেশের পল্লী অবকাঠামো ও আর্তসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আগামী দিনে বিশেষ করে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পে কোরিয়ার অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কোইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ কোইকার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও উন্নয়ন সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে এবং নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে কোইকা বাংলাদেশের সমৃদ্ধিতে অংশীদার হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকে কোইকা বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর জুনসু কিম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সরকারি প্রতিনিধি দলে ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অধীনস্থ দফতরসমূহের প্রধানরা। দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনা বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির আধুনিকায়ন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন। এই সফরের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি ও অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ