রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হৃদযন্ত্রে সফল এনজিওপ্লাস্টি সম্পন্ন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হৃদযন্ত্রে সফল এনজিওপ্লাস্টি সম্পন্ন

জাতীয় ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতির মো. সাহাবুদ্দিনের হৃদযন্ত্রে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার সময় তাঁর হৃদযন্ত্রের ধমনিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক ধরা পড়ায় জরুরিভিত্তিতে স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে বঙ্গভবন।

বঙ্গভবনের প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজে অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত রয়্যাল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়। ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টেফেন হোলির নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল এই অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন। এনজিওগ্রাম চলাকালে হৃদযন্ত্রের ধমনিতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় প্রতিবন্ধকতা (ব্লক) শনাক্ত হওয়ায় চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করার সিদ্ধান্ত নেন। সফলভাবে স্টেন্ট স্থাপনের পর তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক কর্নেল ডা. এ কে এম ফয়জুল হক জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তাঁর আরোগ্য লাভের প্রক্রিয়া চলছে। রাষ্ট্রপতি তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

৭৪ বছর বয়সী রাষ্ট্রপ্রধান মো. সাহাবুদ্দিনের হৃদরোগের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে তাঁর একটি জটিল ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল। সেই অস্ত্রোপচার পরবর্তী নিয়মিত ফলো-আপ এবং আনুষঙ্গিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে তিনি বর্তমানে কেমব্রিজের এই বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। উল্লেখ্য, রয়্যাল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালটি হৃদরোগ চিকিৎসা ও গবেষণায় বৈশ্বিক মানে অত্যন্ত অগ্রগামী এবং বিশ্বের প্রথম সফল হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত।

এর আগে গত ৯ মে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর সফরসূচি অনুযায়ী, চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১৮ মে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে পরবর্তী করনীয় নির্ধারণ করবেন। বর্তমানে তাঁর স্বাস্থ্যের প্রতিটি প্যারামিটার স্থিতিশীল থাকায় নির্ধারিত সময়েই তিনি দায়িত্ব পালনে ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ