বিনোদন ডেস্ক
বলিউডের প্রভাবশালী নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘হীরামন্ডি’ সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দরি। সিরিজটিতে তার অনবদ্য পারফরম্যান্স এবং রাজকীয় উপস্থিতি দর্শকদের প্রশংসা কুড়ালেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বাহ্যিক পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বিশেষ করে অদিতির বর্তমান দাম্পত্য জীবন এবং তার পোষ্যপ্রীতি এখন বিনোদন জগতের অন্যতম চর্চিত বিষয়।
দীর্ঘদিনের প্রেমের পর অভিনেতা সিদ্ধার্থের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন অদিতি। তবে এই তারকা দম্পতির সংসারে তারা দুজনই একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু নন; সেখানে সমান গুরুত্ব পায় অদিতির দুই পোষ্য বিড়াল—ইগি এবং অলি। পার্সিয়ান প্রজাতির এই বিড়াল দুটিকে অভিনেত্রী নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। পেশাগত কারণে প্রায়শই তাকে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হয়, আর সেই সময়টুকুতে পোষ্যদের কাছ থেকে দূরে থাকা তার জন্য মানসিকভাবে কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। অবসরের পুরো সময়টাই তিনি ইগি ও অলির সঙ্গে কাটাতে পছন্দ করেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী তার স্বভাবজাত বিনয় ও হাস্যরসের মিশেলে মন্তব্য করেন যে, তার নিজের মুখের গড়ন অনেকটা বিড়ালের মতো। তবে স্ত্রীর এমন আত্মমূল্যায়নের সঙ্গে একমত হতে পারেননি স্বামী সিদ্ধার্থ। তিনি কৌতুকপূর্ণভাবে মন্তব্য করেন, অদিতিকে সামলানো অনেকটা ‘গোল্ডেন রিট্রিভার’ প্রজাতির কুকুরের মতো, যাকে প্রতিনিয়ত বিনোদন দিতে হয় এবং সঙ্গ দিতে হয়। স্বামী-স্ত্রীর এমন নির্ভেজাল খুনসুটি ও পারিবারিক রসায়ন ভক্তদের মধ্যে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
অদিতির মতে, বিড়ালদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত স্বতন্ত্র। তাদের ভালোবাসা অর্জন করে নিতে হয় এবং তারা অকারণে কাউকে বিরক্ত করে না। প্রাণীদের এই সংযত ও মার্জিত স্বভাবের প্রতি তার বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে বলে তিনি জানান। নিজের ব্যক্তিগত দর্শনের সঙ্গে বিড়ালদের এই জীবনযাত্রার মিল খুঁজে পান বলেই হয়তো তাদের প্রতি অভিনেত্রীর এই বিশেষ অনুরাগ।
এদিকে, অদিতির শৈল্পিক সৌন্দর্য ও মার্জিত ভাবমূর্তি বরাবরই ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রশংসিত। তবে গত কয়েক বছরে তার চেহারার পরিবর্তন নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক সমালোচকের দাবি, কসমেটিক সার্জারি বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি তার মুখের আদলে আমূল পরিবর্তন এনেছেন। বিশেষ করে তার নাকের গঠন এবং চোয়ালের রেখা আগের তুলনায় অনেক বেশি সুবিন্যস্ত হওয়ায় এই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। যদিও অভিনেত্রী সরাসরি এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি, তবে তার সাম্প্রতিক কাজ ও ব্যক্তিজীবনের স্থিরচিত্রগুলোতে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এই জল্পনাকে ছাপিয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন অভিনয়শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন ও বাহ্যিক পরিবর্তন নিয়ে জনমনে কৌতূহল থাকা স্বাভাবিক। তবে অদিতির ক্ষেত্রে তার অভিনয় দক্ষতা এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অর্জনই মূল আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত। ‘হীরামন্ডি’র অভাবনীয় সাফল্যের পর তার ক্যারিয়ারের এই নতুন অধ্যায়টি যেমন পেশাগতভাবে সমৃদ্ধ, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনে সিদ্ধার্থের সঙ্গে তার স্থিতিশীল সম্পর্ক ও সাধারণ জীবনযাপন তাকে অন্যান্য তারকাদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই অদিতি ও সিদ্ধার্থের পারিবারিক মুহূর্তগুলো উঠে আসে, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে কাজের চাপের বাইরেও তারা নিজেদের মতো করে একটি শান্ত ও সুখী জীবন অতিবাহিত করছেন। অদিতির পোষ্যপ্রীতি এবং তার অকৃত্রিম স্বভাব তাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। সমালোচনা ও জল্পনা থাকলেও, নিজের কাজ এবং একান্ত ব্যক্তিগত জগত নিয়ে অদিতি রাও হায়দরি বর্তমানে তার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময় পার করছেন।


