বিনোদন ডেস্ক
জনপ্রিয় ভারতীয় অভিনেত্রী মৌনী রায় ও তাঁর স্বামী, দুবাই ভিত্তিক ব্যবসায়ী সুরজ নাম্বিয়ারের বৈবাহিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বিচ্ছেদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে অবশেষে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন অভিনেত্রী। তবে বিচ্ছেদের খবরটি তিনি সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার না করে সংবাদমাধ্যমকে স্পর্শকাতর এই সময়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
গতকাল নিজের ভেরিফাইড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের স্টোরিতে দেওয়া এক বার্তায় মৌনী রায় লেখেন, “সকল সংবাদমাধ্যমের কাছে অনুরোধ, দয়া করে কোনো ধরনের ভিত্তিহীন বা ভুয়া খবর প্রচার করবেন না। এই সময়ে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আমাদের একা থাকতে দিন।” অভিনেত্রীর এমন রহস্যময় বার্তার পর তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে কৌতূহল আরও বেড়েছে। কারণ, ভক্তরা লক্ষ্য করেছেন যে মৌনী রায় এবং সুরজ নাম্বিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরকে ‘আনফলো’ করেছেন এবং মৌনী তাঁর প্রোফাইল থেকে সুরজের সঙ্গে থাকা বেশ কিছু ছবি সরিয়ে ফেলেছেন।
মৌনী ও সুরজের সম্পর্কের এই অবনতির পেছনে একাধিক কারণ নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, চলতি বছরের শুরু থেকেই তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। বিশেষ করে সুরজের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সুরজের ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা এবং মৌনীর আর্থিক লগ্নির সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে কোনো কোনো মহলে। যদিও সুরজ নাম্বিয়ার দুবাইয়ের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত, তাই তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগটি কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
এই ঘটনার নতুন মোড় হিসেবে সামনে এসেছে মৌনী রায়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও অভিনেত্রী দিশা পাটানির একটি পদক্ষেপ। লক্ষ্য করা গেছে, তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুরজকে আনফলো করেছেন। এই বিষয়টি বিচ্ছেদ গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাধারণত ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের এমন আচরণ ভারতীয় শোবিজ জগতে বিচ্ছেদের প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়।
মৌনী রায় ও সুরজ নাম্বিয়ারের সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল ২০১৯ সালে। দুবাইয়ে নতুন বছরের একটি অনুষ্ঠানে বন্ধু মহলের মাধ্যমে তাঁদের প্রথম পরিচয় হয়। দীর্ঘ দুই বছর প্রেমের পর ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি ভারতের গোয়ায় দক্ষিণ ভারতীয় ও বাঙালি—উভয় রীতিতে অত্যন্ত জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকে তাঁদের সুখী দাম্পত্য জীবনের নানা চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উঠে আসত। ফলে হঠাৎ করে এই বিচ্ছেদের খবরটি ভক্তদের জন্য বেশ অপ্রত্যাশিত ছিল।
মৌনী রায় তাঁর ক্যারিয়ারে বরাবরই ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। এর আগে চলচ্চিত্র নির্মাতা অয়ন মুখার্জিসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গেলেও তিনি কখনো তা নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা করেননি। এবারের ঘটনায় তাঁর সরাসরি বিবৃতি প্রদান বিষয়টির গুরুত্ব ও পরিস্থিতির জটিলতাকে নির্দেশ করছে।
বর্তমানে বলিউডে অন্যতম সফল অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মৌনী রায়। টেলিভিশন ধারাবাহিক থেকে শুরু করে ‘ব্রহ্মাস্ত্র’র মতো বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। পেশাগত জীবনের এই স্বর্ণসময়ে ব্যক্তিগত জীবনের এমন টানাপোড়েন তাঁর ক্যারিয়ারে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত অভিনেতা বা তাঁর পরিবার থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিচ্ছেদ পত্র বা আইনি পদক্ষেপের খবর নিশ্চিত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সংবাদমাধ্যমের প্রতি মৌনীর এই আহ্বান মূলত গুজব নিয়ন্ত্রণ এবং নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের একটি প্রচেষ্টা হতে পারে।


