ডিসেম্বরের মধ্যে ময়মনসিংহে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ঘোষণা

ডিসেম্বরের মধ্যে ময়মনসিংহে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক

ময়মনসিংহ নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং রেলসেবার মানোন্নয়নে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি। তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা অথবা সিলেট রুটে একটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। একইসঙ্গে নগরীর যানজট নিরসন ও যাত্রীসেবা নিশ্চিতে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য প্রদান করেন। এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও রেলওয়ে স্টেশন সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

রেলপথের আধুনিকায়ন ও যাত্রীসেবা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের বর্তমান অবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে ব্যাপক সংস্কার কাজ হাতে নেওয়া হবে। স্টেশনে আধুনিক যাত্রী ছাউনি (শেড), উন্নত বিশ্রামাগার, পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট এবং নামাজঘর স্থাপন করা হবে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রেলের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া বর্তমানে বন্ধ থাকা মোহনগঞ্জ ট্রেনটি পুনরায় চালু এবং নিয়মিত চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে কোচের সংখ্যা বাড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি।

নগরীর যানজট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নগরীর কাচারিঘাট এলাকায় একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও নগরীর যানজটপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে তিনটি ওভারপাস অথবা আন্ডারপাস নির্মাণের বিষয়ে উপযুক্ত সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চরপাড়া এলাকার যানজট নিরসনে একটি ‘ইউলুপ’ (ইউ-টার্ন বা ওভারপাস সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো) স্থাপনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন দর্শনের কথা উল্লেখ করে হাবিবুর রশিদ এমপি বলেন, বর্তমান সরকার কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই স্বাস্থ্য কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের মতো জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বনির্ভর ও সুরক্ষিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত এবং স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মতবিনিময় সভার শুরুতে প্রতিমন্ত্রী ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত একটি সামাজিক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির আওতায় নগরীর বস্তিবাসী ও নিম্ন আয়ের প্রায় সাত হাজার পরিবারের মাঝে ‘স্বাস্থ্য সেবা কার্ড’ বিতরণ করা হয়। প্রতিমন্ত্রী এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং জনসেবায় জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী সকালে কাচারিঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর প্রস্তাবিত বেইলি ব্রিজের স্থান, চরপাড়া মোড় এবং জরাজীর্ণ রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রকল্পের কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

উক্ত সভায় অন্যান্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকনসহ স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ। সভায় বক্তারা ময়মনসিংহের সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ