জাতীয় ডেস্ক
রাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তানের জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকায় এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
অভিযান চলাকালীন সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী শুধু সরকারি প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নাগরিক পর্যায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তিনি প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসভবন ও কর্মস্থলের চারপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যক্তিগত সচেতনতাই পারে শহরের আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল মেগাসিটি। ফলে এখানে জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। সরকার ‘ক্লিন ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করলেও, জনসাধারণের সহযোগিতার অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন বাধাগ্রস্ত হয়। তাই তিনি দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে এই সেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিগত কয়েক বছরে ঢাকার বায়ুদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে দেশি-বিদেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রীর এই মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা এবং সরাসরি অভিযানে অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে জাতীয় স্টেডিয়ামের মতো জনবহুল এলাকায় এই কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে সাধারণ পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সরাসরি অংশগ্রহণ তৃণমূল পর্যায়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে উদ্দীপনা জোগায়। তবে এই কার্যক্রম কেবল একদিনের অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত তদারকির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তাঁরা মনে করেন, সঠিক বর্জ্য বিন্যাস এবং ডাস্টবিন ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে ‘ক্লিন ঢাকা’র বাস্তবায়ন সহজতর হবে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং নিয়মিতভাবে নিজ নিজ ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মনিটরিং করার নির্দেশনা প্রদান করেন। জনস্বার্থে এই ধরনের সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।


