প্রবাস ডেস্ক
ওমানের আল মুলাদ্দা এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে চার বাংলাদেশি সহোদরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে কেনাকাটা সেরে বাসায় ফেরার পথে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজা পাড়ার বাসিন্দা মরহুম আবদুল কুদ্দুসের চার ছেলে—রাসেদুল, শাহেদুল, সিরাজুল ও শহিদুল।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত চার ভাইয়ের মধ্যে সিরাজুল ও শহিদুল দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে আগামী শুক্রবার রাতে বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। বাড়িতে অবস্থানরত অপর এক ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে তাদের এই দেশে ফেরার প্রস্তুতি চলছিল। সেই আনন্দ আয়োজনের অংশ হিসেবেই গত মঙ্গলবার দুপুরে চার ভাই একত্রে ওমানের বারকা ড্রাগন মার্টে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে রাত ৮টার দিকে তারা গাড়িতে করে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ফেরার পথে তারা আকস্মিকভাবে শারীরিক অসুস্থতা বোধ করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তারা পারভেজ নামে তাদের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে নিজেদের গুরুতর অসুস্থতার কথা জানান। পারভেজ জানান, শুরুতে বার্তাটি স্বাভাবিক মনে হলেও ১৫ মিনিট পর তিনি ফিরতি কল করলে আর কাউকে ফোনে পাননি। ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থতা তীব্রতর হওয়ায় তারা আল মুলাদ্দা এলাকার রায়ান পলি ক্লিনিকের পাশে গাড়িটি থামিয়েছিলেন। কিন্তু গাড়ি থেকে নেমে সাহায্য চাওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা ততক্ষণে তারা হারিয়ে ফেলেন। সেখানেই গাড়ির অভ্যন্তরে চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
গাড়িটি দীর্ঘক্ষণ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্থানীয় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের সন্দেহ হয়। পরে তারা গাড়ির ভেতরে মোবাইলের আলো ফেলে চারজনকে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে ওমান পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে এবং তাদের পরিচয়পত্র যাচাই করে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা স্পন্সরদের অবহিত করে। বর্তমানে নিহতদের মরদেহ মাস্কাটের একটি সামরিক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
রাঙ্গুনিয়ায় নিহতের স্বজনদের মাধ্যমে জানা গেছে, বড় ভাই রাসেদুলের দুই সন্তান রয়েছে এবং শাহেদুল সম্প্রতি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ১৫ বছর আগে বাবা আবদুল কুদ্দুসের মৃত্যুর পর মা এবং পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের দায়িত্ব ছিল এই চার ভাইয়ের কাঁধে। একসাথে চার ছেলের মৃত্যুর সংবাদে তাদের বৃদ্ধ মা ও গ্রামবাসী এখন শোকে মুহ্যমান। পুরো এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
ওমান পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এই মৃত্যুর পেছনে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। গাড়ির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) থেকে নির্গত কোনো বিষাক্ত গ্যাস বা অন্য কোনো কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে ওমান পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রদান করা হয়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ঘটনার ওপর নজর রাখছে এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


