সিটি নির্বাচনে একক শক্তিতে লড়তে চায় জামায়াত: ১২ সিটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত, গুরুত্ব পাচ্ছেন তরুণেরা

সিটি নির্বাচনে একক শক্তিতে লড়তে চায় জামায়াত: ১২ সিটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত, গুরুত্ব পাচ্ছেন তরুণেরা

 রাজনীতি ডেস্ক

আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটগত অবস্থানের পরিবর্তে নিজস্ব শক্তিতে এককভাবে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনে এরই মধ্যে ১২ জন মেয়র পদপ্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি। জোটবদ্ধ রাজনীতির সমীকরণ বজায় থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেদের জনসমর্থন ও সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে চায় তারা। এই নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্ব এবং বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

কৌশলগত পরিবর্তন ও প্রার্থী নির্বাচন জামায়াতে ইসলামীর নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, এর আগে কেবল ‘রুকন’ বা শপথধারী সদস্যদের মনোনয়ন দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও বর্তমানে সেই নীতিতে নমনীয়তা আনা হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সাধারণ কর্মী, সমর্থক এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন দেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে। যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে প্রার্থীর অভিজ্ঞতা, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ জানান, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য অধিকাংশ প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জোটের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ থাকলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াত এককভাবেই মাঠে নামবে।

চার সিটিতে প্রচারণা শুরু ইতোমধ্যেই চার সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে তাঁদের নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন:

  • নারায়ণগঞ্জ: মহানগর জামায়াতের আমির ও সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি আবদুল জব্বার।

  • গাজীপুর: তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক ছাত্রনেতা হাফিজুর রহমান।

  • চট্টগ্রাম: মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালী।

  • রংপুর: মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান।

ঢাকার দুই সিটিতে সম্ভাব্য মুখ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। যদিও ঢাকা দক্ষিণে জোটের শরিক ন্যাশনাল সিভিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে জোটের প্রার্থী করার প্রস্তাব ছিল, তবে জামায়াত নেতারা নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ার পক্ষেই অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

জোট বনাম একক অবস্থান সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের অংশীদার হিসেবে জামায়াত অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক পথে হাঁটার পেছনে ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতাকে কারণ হিসেবে দেখছেন নেতারা। অতীতে জোটের বাইরে থেকে নির্বাচন করে অধিকতর সফল হওয়ার নজির রয়েছে দলটির। জামায়াত মনে করছে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের জনসমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা এখন নিজেদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখছে।

এদিকে জোটের আরেক শরিক এনসিপিও একক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন সিটি ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এনসিপি নেতা সারজিস আলমের মতে, জোটগত না একক নির্বাচন হবে তা তফসিলের আগে চূড়ান্ত হবে, তবে প্রস্তুতির স্বার্থেই তাঁরা প্রার্থী তালিকা দিচ্ছেন।

দ্রুত নির্বাচনের দাবি ও সংস্কার জামায়াতের পক্ষ থেকে বর্তমান স্থানীয় সরকার কাঠামোর সংস্কার এবং দ্রুত নির্বাচনের দাবি তোলা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত প্রশাসকদের সরিয়ে দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতারা। তাদের মতে, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক পদে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

নির্বাচনকালীন সময়রেখা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে স্থানীয় নির্বাচনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়া এ বছরেই শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো সীমিত। অন্যদিকে সরকারি ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হয়ে পরবর্তী ১০ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত চলতে পারে। এই দীর্ঘমেয়াদী নির্বাচনী যুদ্ধকে সামনে রেখেই জামায়াতে ইসলামী সারা দেশে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী যাচাই-বাছাই ও মাঠ গোছানোর কাজ সম্পন্ন করছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ