জাইকা প্রতিনিধিদলের সাথে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক: যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াবে জাপান

জাইকা প্রতিনিধিদলের সাথে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক: যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াবে জাপান

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতের টেকসই রূপান্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। এ সময় তাঁর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি। অন্যদিকে, জাইকার পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের সড়ক, দীর্ঘ সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন খাতের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। একই সাথে ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, আধুনিক প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহার এবং আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো নিয়ে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠককালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশের যোগাযোগ খাতকে আধুনিক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অপরিহার্য। এই লক্ষ্য অর্জনে জাইকার দীর্ঘদিনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাইকার এই ধারাবাহিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বাস্তবায়নাধীন বৃহৎ প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে, যা আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই রূপান্তরকে আরও টেকসই করতে জাপানের উন্নত প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জাইকা প্রতিনিধিদলের প্রধান তাকাহাশি জুনকো বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে জাইকা এ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পেরে গর্বিত। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয় যে, বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতের আধুনিকায়নে জাইকার অংশীদারিত্ব কেবল অব্যাহতই থাকবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে এই সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে। বিশেষ করে নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাইকা বিশেষ গুরুত্ব দেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাইকার মতো বৈশ্বিক সংস্থার টেকসই সহযোগিতা বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ সচল রাখতে এবং মেগা প্রকল্পগুলোর সময়মত বাস্তবায়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ