জাতীয় ডেস্ক
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্যবৃন্দ মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাক্ষাতকালে কমিশনের সদস্য অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন, ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন, অধ্যাপক ড. লিয়াকত আলী, এম এম রেজা এবং ডা. আজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের কৌশল ও ভবিষ্যৎ কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিশনের সদস্যরা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন, জবাবদিহিতা, নিরাপত্তা এবং জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের সাথে সর্বাত্মক সহযোগিতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে জানানো হয়, এই সংস্কার প্রতিবেদনে চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গবেষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মতামতের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে প্রদত্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশের সাথে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য রয়েছে; যার মধ্যে ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রণয়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক সেবার মানোন্নয়ন অন্যতম।
কমিশনের সদস্যরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ ও এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির জোরালো আহ্বান জানান। তারা উল্লেখ করেন, একটি শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হলে দেশের সামগ্রিক রোগের প্রকোপ, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় এবং তৃতীয় পর্যায়ের (বিশেষায়িত) হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে এই ‘স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হয়েছিল। কমিশনটি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে সরকারের নিকট এই চূড়ান্ত সুপারিশমালা ও প্রতিবেদন জমা দেয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কমিশনের সুপারিশসমূহকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।


