অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২১ মে) সূচক ও লেনদেন উভয়েরই উত্থান ঘটেছে। তবে অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বাড়লেও মোট লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা এবং বাছাইকৃত কিছু খাতের শেয়ারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্রয়াদেশ বৃদ্ধির কারণে সার্বিক বাজার ইতিবাচক অবস্থানে ছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৪১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ২৬৪ পয়েন্টে স্থিতু হয়েছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, অন্যান্য প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সূচকের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৮৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এই অঙ্ক আগের কার্যদিবসের চেয়ে ২৬ কোটি টাকা বেশি, যেখানে বুধবার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৪১ কোটি ১২ লাখ টাকা। ডিএসইতে এদিন মোট ৩৯৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ২৩৩টি প্রতিষ্ঠানের, হ্রাস পেয়েছে ৯৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে বাকি ৪৯টি কোম্পানির শেয়ার দর।
বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় আধিপত্য বিস্তার করেছে আরডি ফুড, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, মীর আকতার, বিডি থাই ফুড, বসুন্ধরা পেপার, টেকনো ড্রাগস, কেডিএস এক্সেসরিজ, সান লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডমিনেজ স্টিল এবং একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড। এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের অধিক আগ্রহের কারণে সামগ্রিক টার্নওভার বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২১ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৭০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে এদিন ২০০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১১৭টি কোম্পানির দর বেড়েছে, ৫৮টির কমেছে এবং ২৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সূচক বাড়লেও সিএসইতে ওলটপালট হয়েছে লেনদেনের চিত্রে। বাজারটিতে বৃহস্পতিবার মাত্র ৩০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১৬ কোটি টাকা কম। এর আগের কার্যদিবসে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বড় বিনিয়োগকারীদের ঢাকা কেন্দ্রিক লেনদেনে বেশি মনোযোগী হওয়ার কারণে সিএসইতে এই পতন ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।


