তথ্যপ্রবাহ এখন আর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

তথ্যপ্রবাহ এখন আর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

তথ্যপ্রবাহের বর্তমান বাস্তবতায় তথ্য আর কোনো একক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। রবিবার (২৪ মে, ২০২৬) রাজধানীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়াসের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব। বর্তমান বৈশ্বিক তথ্য প্রবাহের যুগে জনসংযোগ কর্মকর্তাদের ‘ইনফরমেশন ইকোসিস্টেম’ বা তথ্য-বাস্তুসংস্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও আধুনিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না, সে বিষয়েও কর্মকর্তাদের নিবিড় নজরদারি রাখতে হবে।

ডিজিটাল মাধ্যমের গুরুত্ব উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক যুগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বর্জন করে কার্যকর জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব। তাই সরকারি তথ্য অফিসারদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন এবং ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থায় পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করা সময়ের দাবি। তিনি জানান, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের তথ্য ক্যাডারে বর্তমানে তিন শতাধিক কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় প্রচার ও আধুনিক জনসংযোগ ব্যবস্থাপনাকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে এই জনবলকে দক্ষ ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা অপরিহার্য।

বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় ‘পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট’ বা দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবস্থাপনার একটি তীব্র বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা চলছে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এই মনস্তাত্ত্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং দেশের সঠিক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ইয়াসের খান চৌধুরী সমসাময়িক তথ্য প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতার অন্যতম বড় হুমকি হলো ‘মিসইনফরমেশন’ (ভুল তথ্য) ও ‘ডিসইনফরমেশন’ (অপতথ্য)। এই কৃত্রিম সংকট মোকাবিলা এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই বা ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’-এর ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, সরকারের উন্নয়নমূলক ও নীতিগত কার্যক্রমগুলো স্বচ্ছতার সাথে জনগণের সামনে নিখুঁতভাবে তুলে ধরা জনসংযোগ কর্মকর্তাদের অন্যতম প্রধান পেশাগত দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনসংযোগ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের আধুনিক প্রশিক্ষণ সরকারি তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এবং গুজব প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ