অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে তিন ট্রেনের বিলম্ব, নির্বিঘ্ন ঈদ যাত্রায় রেলওয়ের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান

অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে তিন ট্রেনের বিলম্ব, নির্বিঘ্ন ঈদ যাত্রায় রেলওয়ের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান

জাতীয় ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের ট্রেন যাত্রা পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরিদর্শনের সময় রেললাইনে খড় শুকানোর কারণে চাকা পিছলে যাওয়াসহ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তিনটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কথা জানান তিনি। তবে যাত্রী সাধারণের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে রেলওয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন মন্ত্রী।

রবিবার রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঈদ যাত্রার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

রেলপথ মন্ত্রী জানান, সকাল থেকে তিনটি ট্রেনের যাতায়াতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এর মধ্যে একটি ট্রেনের চাকা রেললাইনের ওপর শুকানোর জন্য দেওয়া ধানের খড়ের সংস্পর্শে এসে পিছলে (হুইল স্লিপ) যায়। পরবর্তীতে রিলিফ ট্রেনের সহায়তায় ট্রেনটি উদ্ধার করা হয়। এই দুর্ঘটনার কারণে ২০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা পর্যন্ত তিনটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। তবে লাইনের এই সাময়িক জটিলতা বাদে বাকি সব ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

রেললাইনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার রেললাইনের ওপর স্থানীয় জনগণ খড় শুকাতে দেয়। রেলকর্মীরা যখন এসব সরাতে যান, তখন অনেক সময় স্থানীয়দের ক্ষোভ ও মারধরের শিকার হতে হয়। এছাড়া দেশের সব স্টেশন এখনো পুরোপুরি সুরক্ষিত বা অবরুদ্ধ করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে সাধারণ মানুষের অবাধ প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।”

ঈদে যাত্রী চাহিদার তুলনায় রেলের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৩২ হাজার মানুষ আন্তঃনগর ট্রেনে যাতায়াত করতে পারেন। ঈদ উপলক্ষে এই সক্ষমতা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে আরও ৪ হাজার অতিরিক্ত যাত্রীর যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে লাখ লাখ মানুষের চাহিদার বিপরীতে আমাদের ট্রেনের সংখ্যা, লোকোমোটিভ, কোচ এবং রেললাইনের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আসন্ন ঈদ যাত্রায় বড় কোনো দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে নেওয়া বিশেষ পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব স্থানে রেললাইনের ঝুঁকি রয়েছে বা লাইনচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ঈদের আগেই সংস্কারের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেলের এই তদারকি কার্যক্রম চলমান। বর্তমান রেললাইনের যে পরিস্থিতি, তাতে বড় কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছে।

সীমাবদ্ধতার মাঝেও বর্তমান রেলসেবার মান ও পরিবেশ আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, যাত্রীরা জানিয়েছেন বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমান সার্ভিস, পরিবেশ এবং ট্রেনের সময়সূচি অনেক ভালো। এবার টিকিট বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের সুযোগ দেওয়া হয়নি। শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে টিকিট বরাদ্দ করা হয়েছে। সার্বিক পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক তদারকি ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ