আন্তর্জাতিক ডেস্ক
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী মাদ্রিদে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) আয়োজিত এই গণবিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্প্যানিশ সিভিল সোসাইটি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্পেনের প্রধান বিরোধী দল ‘পিপলস পার্টি’ এবং কট্টর ডানপন্থী দল ‘ভক্স’-এর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে একদল মুখোশধারী আন্দোলনকারী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘মনক্লোয়া প্যালেস’-এর নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এই রাজনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গত মঙ্গলবার (১৯ মে), যখন দেশটির একটি আদালত সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ জাপাতেরোর বিরুদ্ধে অবৈধ প্রভাব খাটানো ও অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। জাপাতেরো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। যদিও জাপাতেরো তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে এই ঘটনা বর্তমান বামপন্থী সরকারের ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী সানচেজের স্ত্রী বেগোনিয়া গোমেজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হলে তিনি সাময়িকভাবে পদত্যাগের কথা বিবেচনা করেছিলেন। সে সময় সানচেজ অভিযোগগুলোকে কট্টর ডানপন্থীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চাল বলে অভিহিত করেন। তবে এবার ঘনিষ্ঠ মিত্রের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের তদন্ত শুরু হওয়ায় দেশজুড়ে পুনরায় তার পদত্যাগের দাবি তীব্র রূপ নিয়েছে।
শনিবারের এই সমাবেশে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। আন্দোলনের আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী প্রায় ৮০,০০০ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে, মাদ্রিদে নিযুক্ত স্পেন সরকারের প্রতিনিধি দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০,০০০। এই বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা স্পেনের বর্তমান সরকারের স্থিতিশীলতাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।


