রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার বিচার ৫-৭ দিনের মধ্যেই সমাপ্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার বিচার ৫-৭ দিনের মধ্যেই সমাপ্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অপরাধ ডেস্ক

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দ্রুততম সময়ে এই বিচার কাজ শেষ করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আজ রবিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে শিশু ও নারী নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রবণতা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত আসামিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে। অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

পল্লবীর ঘটনার উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শিশু রামিসা আক্তারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ করেছে এবং ঘটনার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আজই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচার ব্যবস্থার স্থবিরতা এবং নতুন আইনি সংস্কারের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, ঢাকাতেই বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার মাদকের মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে। এই বিশাল মামলা জট নিরসনে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে সরকার বিভিন্নমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

একই সঙ্গে দেশে অফলাইন এবং অনলাইন ভিত্তিক সব ধরনের অবৈধ জুয়া ও বেটিং প্রতিরোধে সরকার নতুন এবং কঠোর আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, জুয়া প্রতিরোধে দেশে বর্তমানে ১৮৬৭ সালের একটি প্রাচীন আইন কার্যকর রয়েছে, যা বর্তমান যুগের অনলাইন অপরাধ দমনে অপর্যাপ্ত। যুগের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে এই পুরনো আইনটির আমূল সংস্কার ও পরিমার্জন করা হচ্ছে। খসড়া আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী সংসদ অধিবেশনেই বিল আকারে উত্থাপন করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

সংলাপে ভারতের সঙ্গে বন্দী বিনিময় চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় ভারতকে তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হবে এবং ভারত সরকার এই চুক্তির শর্ত ও মর্যাদা রক্ষা করে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে বলেই সরকার প্রত্যাশা করে।

বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

Uncategorized