খেলাধুলা ডেস্ক
আগামী আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গত ৩১ মে (রোববার) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে আলবিসেলেস্তেদের বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে। এবারের আসরকে সামনে রেখে দেশটির কানসাস সিটিকে নিজেদের প্রধান ঘাঁটি বা ক্যাম্প হিসেবে নির্ধারণ করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
দলটি কানসাসে পৌঁছানোর পর থেকেই ফুটবলপ্রেমী এবং সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিশেষ করে দলের অধিনায়ক ও তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির আবাসন ব্যবস্থা এবং তার হোটেলের রুম নম্বর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টিনা দলের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে লিওনেল মেসি হোটেলের ২০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করবেন। ফুটবলারদের মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা খুঁটিনাটি বিষয়, বিশেষ করে খেলোয়াড়দের জার্সি নম্বর বা রুম নম্বরের মতো বিষয়গুলো নিয়ে ভক্তদের মধ্যে সবসময়ই এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক কৌতূহল কাজ করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
এর আগে, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল যখন তাদের তৃতীয় শিরোপা জয়ের অভিযানে নেমেছিল, তখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ব্যারাকে লিওনেল মেসির জন্য নির্ধারিত রুম নম্বর ছিল ২০১। এবারের ২০২ নম্বর কক্ষের সঙ্গে পূর্ববর্তী আসরের কক্ষের সংখ্যার এই পরিবর্তনটি সমর্থকদের একাংশের কাছে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করছে।
ফুটবল বিশ্বে সংখ্যাতত্ত্ব এবং বিশেষ কিছু কাকতালীয় ঘটনাকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। আর্জেন্টিনার সাধারণ সমর্থক ও নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংখ্যাগুলো নিয়ে বিভিন্ন গাণিতিক সমীকরণ ও বিশ্লেষণ তুলে ধরছেন। কাতার বিশ্বকাপের রুম নম্বর ২০১-এর অঙ্কগুলোর সমষ্টি ছিল ৩ (২+০+১), যা আর্জেন্টিনার তৎকালীন তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য বা অর্জনের সাথে কাকতালীয়ভাবে মিলে যায়। চলমান আসরে মেসির রুম নম্বর ২০২-এর অঙ্কগুলোর যোগফল দাঁড়ায় ৪ (২+০+২)। এই সমীকরণকে সামনে রেখে ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশা প্রকাশ করছেন যে, এই ‘৪’ সংখ্যার সমন্বয়ে হয়তো আলবিসেলেস্তেরা তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলতে সক্ষম হবে।
বিশ্বকাপের মতো একটি মেগা ইভেন্ট শুরুর প্রাক্কালে মাঠের রণকৌশল, খেলোয়াড়দের শারীরিক সুস্থতা ও অনুশীলনের পাশাপাশি বৈশ্বিক ফুটবল সংস্কৃতির অংশ হিসেবে এমন নানা মনস্তাত্ত্বিক ও আবেগীয় উপাদানও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। আর্জেন্টিনা দল বর্তমানে কানসাস সিটির ক্যাম্পে তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্ব শুরু করেছে। বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার লড়াইয়ে নামার আগে দলের সার্বিক পরিবেশ এবং তারকা খেলোয়াড়দের ঘিরে ভক্তদের এই বাড়তি উন্মাদনা দলটিকে মানসিকভাবে কতটা অনুপ্রাণিত করে, তা মাঠের পারফরম্যান্সেই প্রমাণিত হবে।


