লাহোরে স্পিন বিষে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে অস্ট্রেলিয়ার সমতা

লাহোরে স্পিন বিষে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে অস্ট্রেলিয়ার সমতা

খেলার মাঠ ডেস্ক

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত নৈপুণ্যে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে ৪১ রানে পরাজিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ম্যাচে রাওয়ালপিন্ডিতে বড় ব্যবধানে হারের পর এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল সফরকারীরা। মন্থর উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২৩২ রানের মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৪ ওভারে ১৯০ রানেই থমকে যায় স্বাগতিক পাকিস্তানের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে জয়ের মূল নায়ক পেসার ন্যাথান এলিস।

মঙ্গলবার (২ জুন) টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। প্রথম ম্যাচের ব্যাটিং বিপর্যয়ের স্মৃতি কাটানোর লক্ষ্যে মাঠে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের প্রথম বলেই ওপেনার অ্যালেক্স কেয়ারিকে শূন্য রানে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান শাহিন শাহ আফ্রিদি। প্রাথমিক সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ব্যক্তিগত ১৫ রানে ম্যাথু শর্ট এবং মাত্র ৫ রানে মার্নাস লাবুশেন বিদায় নিলে ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে সফরকারীরা।

চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জস ইংলিস ও অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। উইকেটের মন্থর প্রকৃতির কারণে রান তোলার গতি কিছুটা ধীর হলেও এই জুটি ৯৩ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৫১ রান যোগ করে। জস ইংলিস ৫টি চারের সাহায্যে ৭৪ বলে ৫১ রান করে আরাফাত মিনহাসের শিকার হন। এরপর পঞ্চম উইকেটে ম্যাট রেনশর সঙ্গে ৬৫ রানের আরেকটি কার্যকর জুটি গড়েন গ্রিন। গ্রিন ৯২ বলে ২টি ছক্কা ও ১টি চারের সাহায্যে ৫৩ রান করে আউট হন। শেষ দিকে রেনশর ৪৩ এবং তরুণ অলিম্পিক পিক-এর ৩২ বলে ৩১ রানের ক্যামিও ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৩১ রানের পুঁজি সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে ৩৫ রানে ৩টি উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। এছাড়া আরাফাত মিনহাস, আবরার আহমেদ ও হারিস রউফ প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট লাভ করেন।

২৩২ রানের মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানি ব্যাটাররা শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। প্রথম দুই ওভারের মধ্যেই দুই ওপেনার মাজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহানকে হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার বাবর আজম ১৬ বলে ১৬ রান করে ন্যাথান এলিসের শিকার হলে পাকিস্তানের ইনিংস বড় ধাক্কা খায়। মিডল অর্ডারে সালমান আলি আগা (৭) ও আব্দুল সামাদ (২) দ্রুত বিদায় নিলে মাত্র ৫৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান।

ষষ্ঠ উইকেটে ঘাজি ঘোরি এবং সপ্তম উইকেটে উদীয়মান স্পিনার আরাফাত মিনহাসকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই জিয়ো রাখেন শাদাব খান। ঘাজি ঘোরি ৩৭ রান করে অ্যাডাম জ্যাম্পার বলে আউট হওয়ার পর, মিনহাসের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়েন শাদাব। তবে মিনহাসকে ৩৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন এলিস। এক প্রান্ত আগলে রেখে প্রায় চার বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের অর্ধশতক তুলে নেন শাদাব খান। তিনি ১০৪ বলে ৭১ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন। তবে অন্য প্রান্তের ব্যাটারদের ব্যর্থতায় তার এই প্রচেষ্টা বৃথা যায়। শেষ ব্যাটার হিসেবে শাদাব খান তানভির স্যাঙ্ঘার বলে স্টাম্পড হলে ১৯০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে পেসার ন্যাথান এলিস ৩৩ রান খরচায় ৪টি উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন। এছাড়া অফ স্পিনার ম্যাথু শর্ট ৩৬ রানে ৩টি এবং লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা, তানভির স্যাঙ্ঘা ও ম্যাথু কুনেমান ১টি করে উইকেট নেন। আগামী বৃহস্পতিবার একই মাঠে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ