আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উপসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনে লক্ষ্য করে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে, নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে ছয়টি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্রটি তার নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর দিকে ধেয়ে আসা ইরানের কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত এবং দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলের ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ও রাডার স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। সেন্টকমের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন বা মিত্রবাহিনীর সেনা সদস্য হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ইরান যে দাবি করেছে, তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। সেন্টকম এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে অভিহিত করে জানিয়েছে, মিত্র দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মার্কিন বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এই ঘটনার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে নৌ-যান চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এই উত্তেজনার ফলে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
আঞ্চলিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পরপরই কুয়েত ও বাহরাইনসহ আশপাশের উপসাগরীয় দেশগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বেসামরিক নাগরিক হতাহত কিংবা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট বিবরণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, কুয়েত এবং বাহরাইন উভয় রাষ্ট্রই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও সামরিক অংশীদার। বিশেষ করে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্থায়ী সদর দফতর অবস্থিত, যা পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং আরব সাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ও কৌশলগত কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাত সরাসরি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলোর কার্যকারিতা টিকিয়ে রাখতে এই মুহূর্তে উভয় পক্ষেরই সংযম প্রদর্শন করা জরুরি।


