ধর্ম ও উৎসব ডেস্ক
পবিত্র হজ ব্রত পালন শেষে সৌদি আরব থেকে নির্বিঘ্নে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন বাংলাদেশি হাজিরা। ফিরতি ফ্লাইট শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭৮টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৩২ হাজার ৮৩২ জন হাজি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তবে হজ পালনের এই পবিত্র সফরের মধ্যেই সৌদিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ও স্বাভাবিক নিয়মে ৪৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ও হাজির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্কের নিয়মিত বুলেটিন থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি কন্ট্রোল রুম ও এয়ারলাইন্সগুলোর সমন্বিত তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশে ফিরে আসা ৩২ হাজার ৮৩২ জন হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব গিয়েছিলেন ৩ হাজার ৩২৮ জন। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ২৯ হাজার ৫০৪ জন হাজি। হাজিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য এ পর্যন্ত তিনটি বিমান সংস্থা মোট ৭৮টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২৮টি, সৌদি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স (সাউদিয়া) ৩১টি এবং সৌদির বেসরকারি বিমান সংস্থা ফ্লাইনাস ১৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিশেষ হজ টার্মিনালের মাধ্যমে হাজিদের দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এদিকে হজ বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে এবং হজ পরবর্তী সময়ে মোট ৪৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩২ জন এবং নারী ১৬ জন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, পবিত্র মক্কা নগরীতে সবচেয়ে বেশি ৩৫ জন হাজির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মদিনায় ১২ জন এবং জেদ্দায় ১ জন মারা গেছেন। সৌদি আরবের স্থানীয় আইন ও নিয়ম অনুযায়ী, মক্কায় বা মদিনায় মৃত্যুবরণকারী হাজিদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হচ্ছে।
মৃত্যুর পাশাপাশি তীব্র গরম এবং দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে এ পর্যন্ত মোট ৩৬০ জন বাংলাদেশি হাজি প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। চিকিৎসা শেষে অধিকাংশ হাজি নিজ নিজ আবাসে ফিরে গেলেও এখনো ২৩ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাংলাদেশ হজ মিশনের মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসাধীন হাজিদের খোঁজখবর রাখছেন।
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের এই পুরো কার্যক্রমের দিকে তাকালে দেখা যায়, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বমোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন পবিত্র হজ পালন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি কোটায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন সৌদি আরব গমন করেন।
চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী প্রথম হজ ফ্লাইট ঢাকা ত্যাগ করে এবং শেষ ফ্লাইটটি পরিচালিত হয় ২১ মে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলে এই প্রাক-হজ ফ্লাইট কার্যক্রম। এরপর সৌদি আরবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ৩০ মে থেকে হাজিদের নিয়ে ফিরতি ফ্লাইট বাংলাদেশে আসা শুরু করে। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, হাজিদের নিয়ে এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। হজ প্রশাসন আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল হাজি নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবেন।


