জাতীয়/আঞ্চলিক ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পরিবেশ সুরক্ষায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্থানীয় ফুটবল সমর্থকেরা। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকারে রূপ দিতে ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচার’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে সুবর্ণচর উপজেলার গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এই চারা বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং স্থানীয় তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক ফুটবল সমর্থকের মাঝে মোট এক হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে প্রিয় দল চ্যাম্পিয়ন হলে দেশজুড়ে আরও ৪০ হাজার বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
সুবর্ণচরের গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ডিরেক্টর মো. নুর নবী।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফুটবল বিশ্বকাপের বৈশ্বিক উন্মাদনা এবং এর ইতিবাচক জোয়ারকে কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। প্রকৃতি ও বৃক্ষের সান্নিধ্যে মানুষের মানসিক মনোবল বৃদ্ধি পায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুবর্ণচর উপজেলাকে একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন স্থানীয় সমর্থকেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনী দিনে ৫০টি ভিন্ন প্রজাতির মোট এক হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকৃত চারাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— আম, জাম, কাঁঠাল, বক্স বাদাম, শজনে, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, অর্জুন, আমলকী, ডালিম, বেল এবং ঔষধি গুণসম্পন্ন নিমগাছ। সংগঠনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, উপস্থিত প্রত্যেক সমর্থক সর্বোচ্চ ১০টি করে চারা সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অন্তত ২০০ জন সমর্থকের মধ্যে এই চারা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া পরিবেশকর্মীরা জানান, কেবল ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করেই নয়, বরং যেকোনো সামাজিক ও পারিবারিক উৎসব যেমন— বিয়ে, জন্মদিন কিংবা স্মারক হিসেবে মৃত্যুবার্ষিকীতেও সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। বিগত পাঁচ বছর ধরে স্থানীয় মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্ম নেওয়া শিশুদের পরিবারকে প্রায় দুই হাজার চারা উপহার দেওয়ার একটি ধারাবাহিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে বৃক্ষরোপণের জন্য উপযুক্ত স্থান ও উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করা হয় এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়া মাত্রই চারা বিতরণ ও রোপণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে দেশজুড়ে বিভিন্ন জেলায় সমন্বিতভাবে আরও ৪০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে। পরিবেশবিদদের মতে, ক্রীড়া উন্মাদনাকে এমন গঠনমূলক ও পরিবেশবান্ধব সামাজিক উদ্যোগে রূপান্তর করার এই প্রয়াস দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


